শরীয়তপুরে গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও এনজিও 

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় বিনিয়োগের বিপরীতে অধিক পরিমাণ ঋণ দেওয়ার কথা বলে তিন শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার পর ‘আলো সংস্থা’ নামের একটি এনজিওর কর্মকর্তারা পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা উপজেলার উত্তর ডামুড্যা বকুলতলা এলাকায় সংস্থাটির কার্যালয়ের সামনে এসে এ অভিযোগ করেন। তাদের অভিযোগ, কনেশ্বর, পূর্ব ডামুড্যা ও ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের প্রশিক্ষণ ও এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কথা বলে সদস্য করা হয়। পরে সঞ্চয় ও ঋণের নামে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।

কনেশ্বর ইউনিয়নের ছাতিয়ানি এলাকার কাউসার হোসেন বলেন, চলতি মাসের শুরুতে সংস্থাটির ফিল্ড অফিসার নাজমুল হাসান তাদের এলাকায় গিয়ে হস্তশিল্প প্রশিক্ষণ ও এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলেন। পরে ১০ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। প্রত্যেকের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ ২৫০ টাকা এবং ঋণ দেওয়ার আগে প্রতি লাখে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। গতকাল রবিবার সঞ্চয় দেওয়ার পর সোমবার ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও অফিসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।  

পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের হাওলাদার কান্দি এলাকার মাহফুজা বেগম বলেন, তার বাড়িতে এসে সংস্থার কর্মকর্তারা নারীদের সেলাইসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ঋণ দেওয়ার কথা বলেন। পরে ২০ সদস্যের একটি দল করা হয়। রবিবার তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা সঞ্চয় দেন। সোমবার ঋণ নিতে এসে দেখেন অফিস বন্ধ এবং কর্মকর্তারা নেই।

আরেক গ্রাহক মাকসুদা বেগম বলেন, তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয় নেওয়া হয়েছে। সোমবার দেড় লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা থাকলেও অফিসে এসে কাউকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে সংস্থাটিতে সদ্য নিয়োগ পাওয়া অফিস সহায়ক মুক্তা আক্তার বলেন, রবিবার বিকেলে অফিসের খাদিজা নামের এক কর্মকর্তা তাকে ফোন করে অফিস বন্ধ করে দিতে বলেন। পরে সোমবার গ্রাহকরা অফিসে এলেও সংস্থার কোনো কর্মকর্তা আসেননি।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতারণা করে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে একজন মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত