‘রাজনীতিকদের বুঝিয়ে দিন, বিশ্ব বদলে গেছে’: মার্কিন ভোটারদের ইরানের আহ্বান

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ এএম

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্রদের কংগ্রেস থেকে সরিয়ে দেন। বুধবার প্রতিবেশী ইরাকে থাকা শেষ ঘাঁটিগুলো থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে ইরান । খবর রয়টার্সের। 

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কাতার তার মধ্যস্থতামূলক কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প আবারও ইরানের দ্রুত আত্মসমর্পণের পূর্বাভাস দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত আইআরজিসির ২৬ পৃষ্ঠার চিঠিতে মার্কিন নাগরিকদের রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বর্তমান নেতাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এবং বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করার কথাও বলা হয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই চিঠি কতটা মার্কিন ভোটারদের প্রভাবিত করবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে এতে এমন কিছু ইস্যু তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলোকে মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা নভেম্বরের ৩ তারিখের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির জন্য নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ওই নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের একটি বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা তৈরি করতে পারে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, 'আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী দুষ্ট, প্রতারক ও সহিংস রাজনীতিকদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিন। নিশ্চিত করুন, আপনাদের রাজনীতিকেরা যেন বুঝতে পারেন যে বিশ্ব বদলে গেছে।'

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প নতুন কোনো যুদ্ধে না জড়ানো, চলমান সংঘাতের অবসান এবং মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ট্রাম্পের শুরু করা ইরান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়াতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রেখেছে।

২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি মাত্র ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা সমর্থন জানিয়েছেন। নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয়ই আমেরিকানদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বলে ওই জরিপে উঠে আসে। ইরানে মার্কিন হামলার প্রতি ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন মাত্র ৩৪ শতাংশ উত্তরদাতা।

২০১৬ সালে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনকে বড় ভুল বলে রিপাবলিকানদের প্রচলিত অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। এবার তার প্রশাসনের অধীনেই বুধবার ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় নেওয়া হয়েছিল।

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটছে ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হাতে সাদ্দাম হোসেনের পতনের ২৩ বছর পর। ওই সামরিক অভিযান পরবর্তী সময়ে দেশটিতে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, যার ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত ইসলামিক স্টেটের উত্থান ঘটে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত