বিজয়নগরে সংঘর্ষ থামলেও থামেনি আতঙ্ক, ঘরবাড়ি ছাড়ছেন মানুষ

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর থামেনি আতঙ্ক। একদিকে সংঘর্ষের ক্ষত, অন্যদিকে ভীতি। সংঘর্ষে গুরুতর আহত আক্তার চেয়ারম্যান গ্রুপের নুরে আলম ও বকুল চেয়ারম্যান গ্রুপের বিল্লাল নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরই মধ্যে নুরে আলমের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে এলাকায়। ভয়ে ঘরের আসবাব, ফ্রিজ, এসি থেকে শুরু করে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি নিয়ে এলাকা ছাড়ছে অনেক পরিবার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে গত ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইছাপুরা ইউনিয়নে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভয় আর অনিশ্চয়তায় ঘরের মালামাল নিয়ে এলাকা ছাড়ছেন অনেকে। ভ্যান, অটোরিকশা ও ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে আসবাব, ফ্রিজ, এসি, বিছানাপত্রসহ ঘরের বিভিন্ন সামগ্রী। সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিও।

স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার বিকেল থেকে অনেকে পরিবার নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এলাকা ছাড়ছেন। বিশেষ করে নারীরা মালামাল নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। আর অনেক পুরুষ ইতোমধ্যে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে সংঘর্ষে গুরুতর আহত আক্তার চেয়ারম্যান গ্রুপের নুরে আলম এবং বকুল চেয়ারম্যান গ্রুপের বিল্লালকে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে নুরে আলমের মৃত্যুর খবর বারবার ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। যদিও তার মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। অন্যদিকে আক্তার চেয়ারম্যান গ্রুপের দাবি, তারা কারও বাড়িতে হামলা করতে চায় না। আতঙ্কিত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন নিজেরাই এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে।

সংঘর্ষের পর এখনো থমথমে ইছাপুরা ইউনিয়নের পরিস্থিতি। একদিকে দুই পক্ষের দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন, অন্যদিকে গুজব আর আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন অনেকে। তবে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়দের দাবি, গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে সংঘর্ষের পর যারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজয়নগর থানার ওসি মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, ‘সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। এদিকে নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এলাকায় চলছে নিয়মিত টহল। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত