প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। বিএনপি সর্বশক্তি নিয়োগ করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে এবং আইন সবার জন্য সমান থাকবে।’
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বেলা ২টার দিকে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী-কহুয়া সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘গুপ্ত দলটি সবসময় জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে পুঁজি করে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এই রাজনৈতিক দলের ১৯৭১ সালে কী ভূমিকা ছিল, সেটিও দেশের মানুষকে ভাবতে হবে। বিএনপি রাজনীতি করে মানুষের জন্য। দেশের কল্যাণের জন্য। বিএনপির খাল খনন, নদী ড্রেজিং ও কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড সবকিছুই মানুষের কল্যাণের জন্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির খাল, নদী খনন সফল হলে এ এলাকার সাড়ে ৪ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। ফলে ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ হবে। এতে ১ লাখ মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে।’
কৃষকদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের পর কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তা দিতে কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা থাকবে না।’
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দেশের মা ও বোনদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। নারীরা স্বাবলম্বী হলে পরিবারের পাশাপাশি পুরুষরাও উপকৃত হবেন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা আরও সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হবে। স্বৈরাচারী সময়ে কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন সেগুলো আবার চালু হচ্ছে। এর ফলে মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরশুরাম উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় ১৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।’
মুহুরী-কহুয়া প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী