সিইসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল মুম্বাই, আটক পাঁচ শতাধিক

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

ভারতের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে তরুণদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনটি শুক্রবার (২ অক্টোবর) মুম্বাইয়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে দেশব্যাপী নতুন আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। তাদের প্রধান দাবি, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। খবর এপি নিউজের। 

একই দাবিতে শুক্রবার নয়াদিল্লির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। তবে পুলিশ সেখানে জমায়েত ঠেকিয়ে দেয় এবং বিক্ষোভস্থলের দিকে যাওয়ার পথে কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে। এলাকাটি আগে থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল। 

অনলাইনে শুরু হওয়া এই তরুণ আন্দোলন পরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে পরিচিতি পায়। এর আগে জুলাইয়ে রাজপথের বিক্ষোভের পর ভারতের শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল বলে সংগঠনটির দাবি। এবার মুম্বাইয়ের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আন্দোলনটি দেশের অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। 

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ভারত সরকার এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং কমিশনের কার্যক্রম আইনসম্মত বলে জানিয়েছে। 

বিতর্ক আরও তীব্র হয় গত মাসে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী—গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধন, নতুন ভোটার নিবন্ধন এবং কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি তুলেছিলেন। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই কমিশনার কিছু সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাদের আপত্তি উপেক্ষা করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। ভারতের আইন অনুযায়ী, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে নির্বাচন কমিশন ওই প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বলেছে, কমিশনারদের মধ্যে মতপার্থক্য ও আলোচনা ছিল স্বাভাবিক অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার অংশ; এগুলোকে আনুষ্ঠানিক লিখিত আপত্তি হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। 

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ভারতের নির্বাচন কমিশনও সম্প্রতি ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত সফটওয়্যার পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’সহ বিরোধী দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের আন্দোলন আরও জোরদার হচ্ছে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত