কুমিল্লা কারাগারে দ্বিগুণের বেশি বন্দী, ২৭ কিশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বন্দী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার। ১ হাজার ৫০০ বন্দীর ধারণক্ষমতার কারাগারে রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে বন্দীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০। এর মধ্যে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরও রয়েছেন।

চলমান অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ৫০ কিশোরের মধ্যে ২৭ জনকে আদালতের নির্দেশে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ রবিবার সকালে দুই কিশোরকে সেখানে পাঠানো হয়। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে যেসব কিশোর কারাগারে এসেছিল, তাদের মধ্যে যাদের দ্রুত জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। অন্য কিশোরেরা জামিনে মুক্তি পেয়েছে।

জেলা পুলিশ জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত পৃথক অভিযানে দুই সহস্রাধিক কিশোর গ্যাং সদস্যসহ মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৮৩৩ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে ১ হাজার ২০৯ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।

অভিযানের কারণে কারাগারে বন্দীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রমেও চাপ তৈরি হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অতিরিক্ত বন্দীদের গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, কষ্ট করে হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। কারাগারে চারটি নতুন বহুতল ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। ভবনগুলো চালু হলে বন্দীদের থাকার সমস্যা থাকবে না।

উল্লেখ- গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে দুই কিশোরকে গত ২১ সেপ্টেম্বর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। পুলিশের কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানের মধ্যেই এই মামলাটি কুমিল্লায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে।

 



সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত