কাগজ-কলমে ৫০ শয্যার হাসপাতাল, মেঝেতে চিকিৎসা নেন রোগীরা

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম

ডেঙ্গু, হাম, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। শয্যার অভাবে হাসপাতালের মেঝেতে বিছানা পেতে রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

উপজেলার এই হাসপাতালটি বহু আগেই কাগজে-কলমে ৩০ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনও বেডের সংখ্যা ৩০টিই রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ হাসপাতাল থেকে ৮৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৫ জন বিভিন্ন বয়সের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার (৩ অক্টোবর) হাসপাতালে ৯ জন ডেঙ্গু রোগীকে চিকিৎসাধীন দেখা গেছে।

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা বেডের ব্যবস্থা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতাল সূত্র জানায়, ডেঙ্গু রোগীর চাপ আরও বাড়লে তাদের মেঝেতেই বিছানা করে চিকিৎসা দিতে হবে। এ কারণে অনেকে বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিচ্ছেন, যা ব্যয়বহুল।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, শাহজাদপুরে হামের প্রকোপ কিছুটা কমলেও গত ৯ মাসে হাম উপসর্গ নিয়ে ৪১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সম্প্রতি ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর চাপ। এ ছাড়া মৌসুম পরিবর্তনের কারণে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের পাশাপাশি নানা ধরনের অসুস্থতা নিয়ে প্রতিদিন অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ফলে শয্যা সংকট অব্যাহত রয়েছে।

হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার শাহানারা খাতুন জানান, হাসপাতালটি ৩০ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বেডের সংখ্যা আগের ৩০টিই রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৫ জন বিভিন্ন বয়সের রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা বেডের ব্যবস্থা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গত শনিবারও হাসপাতালে ৯ জন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা চলছিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, এ মৌসুমে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা ৪১ জন রোগীকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগ থেকেও অনেক হাম রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তিনি আরও জানান, শ্বাসকষ্ট ও হার্টের সমস্যা নিয়ে যারা হাসপাতালে আসছেন, তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ভর্তি করতেই হচ্ছে। এ ছাড়া ডায়রিয়া ও পেটের পীড়া নিয়ে আসা অনেক রোগীকেও ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে।

মো. মাসুদ রানা বলেন, হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল, চিকিৎসক, অবকাঠামো ও শয্যা সংখ্যা না বাড়ানোয় সেবার পরিধি বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত