জিন্নাতের দাবি মেনে কমলাপুরে উশুর আলাদা ভেন্যুর ঘোষণা

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

এশিয়ান গেমসে উশুতে ব্রোঞ্জ পদক জেতায় জিন্নাত আক্তারকে সংবর্ধনা দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। রবিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিন্নাতকে পদক পরিয়ে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে দেওয়া হয় ১ লাখ টাকা সম্মানী ও ক্রেস্ট। অনুষ্ঠানে জিন্নাতের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উশুর জন্য আলাদা ভেন্যু তৈরির ঘোষণাও দেওয়া হয়।

১৯তম এশিয়ান গেমসে উশুর ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে ব্রোঞ্জ জেতেন জিন্নাত। বাংলাদেশের হয়ে এবারের আসরে একমাত্র পদকটি আসে তাঁর হাত ধরেই। অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে জিন্নাত বলেন, দেশের বাইরে এটাই তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক গেমস। মাত্র ২৪ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। নিজস্ব অনুশীলন ভেন্যু না থাকায় আর্মির শেডে অনুশীলনের সুযোগ পাওয়ার কথাও জানান এই উশু খেলোয়াড়। জিন্নাত বলেন, ‘এটা আমার ফার্স্ট টাইম ইন্টারন্যাশনাল গেম ছিল, দেশের বাইরে ফার্স্ট টাইম যাই। এরকম আমাদের প্র্যাকটিস টাইম ছিল ২৪ দিন। আমাদের একটা নিজস্ব ভেন্যু, একটা শেড ছিল, শেড নাই। আমরা আর্মির শেড ভেন্যুর সহযোগিতা, আর্মির সহযোগিতায় আমরা প্র্যাকটিস করতে পারছি।’

দেশের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক আসরেই পদক জেতার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জিন্নাত বলেন, ‘ফার্স্ট টাইম দেশের জন্য আমার দেশকে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে পেরেছি, মানে এই অনুভূতি প্রকাশ করার মতো ভাষা আমার নাই।’ এ সময় ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে নিজের একটি দাবি তুলে ধরেন জিন্নাত। উশুর জন্য একটি নিজস্ব ভেন্যু ও শেড তৈরির আবেদন জানান তিনি।
জিন্নাতের সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুল হক জানান, রাজধানীর কমলাপুর স্টেডিয়ামের পাশে উশুর জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে আলাদা ভেন্যু তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর আশা, নিজস্ব ভেন্যু পেলে ভবিষ্যতে উশুতে আরও ভালো ফল করবে বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে আমিনুল হক বলেন, এশিয়ান গেমস, অলিম্পিক কিংবা অন্যান্য আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশ শুধু অংশগ্রহণ করতে চায় না; প্রস্তুতি নিয়ে পদকের জন্য লড়াই করতে চায়। এজন্য সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলো চিহ্নিত করে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুধু অংশগ্রহণ করতে চাই না। সত্যিকার অর্থেই প্রস্তুতি নিয়ে আমরা অংশগ্রহণ করে পদকের জন্য লড়াই করতে চাই।’ তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে চায় সরকার। সম্ভাবনাময় ফেডারেশনগুলোকে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের আওতায় এনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হবে।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সামগ্রিক ফলাফল নিয়েও কথা বলেন আমিনুল হক। ২২টি ইভেন্টে অংশ নিয়েও প্রত্যাশিত ফল না আসায় হতাশা থাকলেও তিনি এটিকে নতুন শুরুর জায়গা হিসেবে দেখছেন। প্রতিটি ফেডারেশনের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে একটি কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোকে নিজেদের মূল্যায়ন কমিটি গঠন করে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দুর্বলতা চিহ্নিত করার নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

জিন্নাতের ব্রোঞ্জকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মাহবুব উল আলম। তিনি বলেন, ১৯তম এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের প্রায় ১৮৭ প্রতিযোগীর মধ্যে একমাত্র জিন্নাতের হাত ধরেই পদক এসেছে। ভবিষ্যতে জিন্নাতের মাধ্যমে স্বর্ণপদক জয়ের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ক্রীড়াবিদদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্রীড়া কার্ড, ক্রীড়া ভাতা, ইনজুরি বীমা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিসার নিয়োগ এবং বিভিন্ন স্থানে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের একমাত্র পদকজয়ী জিন্নাত আক্তারকে সম্মাননা দেওয়ার মধ্য দিয়ে এদিন ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সাফল্যের লক্ষ্যের কথাই সামনে এনেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত