অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

শিক্ষার্থীর মা অভিযোগ করেন, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার মেয়েকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেন শিক্ষিকা। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষিকা তার মেয়ের চোখ তুলে নিতে যান পেন্সিল দিয়ে। এ সময় শিক্ষার্থী আয়াতের ডান চোখে রক্তাক্ত জখম হয়।

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম

রাজধানীর পুরান ঢাকার অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ক্যাম্পাসে (দয়াগঞ্জ রোড) দ্বিতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তার মা।

শিক্ষার্থীর মা মিসেস আফরিন হাসনাত রবিবার (৪ অক্টোবর) ঢাকার কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীর মা তার শিশু শিক্ষার্থী মেয়েকে স্কুলের শিক্ষিকা তাসনিম আজাদ সুপ্তি কিভাবে নির্যাতন করেন সে বর্ণনা দেন।

তিনি বলেন, শিক্ষিকা তাসনিম আজাদ সুপ্তি, আমার মেয়ের হাত মটকিয়ে দেবে, যাতে সারা জীবন লিখতে না পারে, এই বলে হুমকি দেয়।

শিক্ষার্থীর মা জানান, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার মেয়েকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেন শিক্ষিকা। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষিকা তার মেয়ের চোখ তুলে নিতে যান পেন্সিল দিয়ে। এ সময় শিক্ষার্থী আয়াতের ডান চোখে রক্তাক্ত জখম হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আফরিন হাসনাত বলেন, গত ৩০ আগস্ট দুপুরে শিক্ষিকা তাসনিম আজাদ সুপ্তি ক্লাস নিচ্ছিলেন। শিক্ষিকা কিছু শব্দ ও তার অর্থ বোর্ডে লিখে শিক্ষার্থীদের খাতায় লিখতে বলেন। শিক্ষার্থী আয়াত অন্যদের মতো নিজেও খাতায় লেখা শুরু করে। শ্রেণিকক্ষে কি পড়ানো হয়েছে সেটা তার মাকে জানাতে হয়। এই কারণে খাতায় লেখা ছাড়াও আরেকটি পৃথক কাগজে আয়াত শিক্ষিকার বোর্ডে লেখা বিভিন্ন শব্দ ও তার অর্থ লেখে। নির্দিষ্ট খাতা ছাড়া অন্য কাগজে কেন লিখল এটার জবাব চান শিক্ষিকা। প্রথমে শিক্ষার্থীকে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। তারপর বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেন শিক্ষিকা। এক পর্যায়ে শিক্ষিকা বলেন, 'তোকে এমন শাস্তি দেবো যে তুই আর লেখাপড়া করার যোগ্যতা রাখবি না'। শিক্ষিকা আরও বলেন, ' তোর লেখার খুব শখ। তোর হাত মটকিয়ে দেব যাতে তুই সারা জীবন আর লিখতে না পারিস।' এসময় শিক্ষার্থী এসময় কান্নাকাটি শুরু করে। এক পর্যায়ে সমস্ত শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুম থেকে বের করে দেন শিক্ষিকা। শুধুমাত্র ওই শিক্ষার্থীকে রেখে তাকে গালিগালাজ করেন। মানসিক নির্যাতন করেন শিক্ষিকা।

এক পর্যায়ে বলেন 'তোর চোখ তুলে নেব, এরপর তুই কিভাবে লিখবি। পেন্সিল দিয়ে তার চোখে আঘাত করেন শিক্ষিকা। ডান চোখ রক্তাক্ত জখম হয়। এক পর্যায়ে শিশু শিক্ষার্থী দৌড়ে ক্লাসরুমের বাইরে এসে বিভিন্ন অভিভাবকদের বিষয়টি জানায়। স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে আফরিন আরো বলেন, তার মেয়ে বাসায় এসে ঘটনা জানালে তিনি নিজেও স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান। কিন্তু কেউ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে গেন্ডারিয়া থানায় ২০১৩ সালের শিশু আইনের ৭০ ধারায় এ একটি মামলা করে কিন্তু পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করেনি শিক্ষিকাকে।

শিশু শিক্ষার্থীর মা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, শিক্ষিকা সুপ্তিকে গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করছে না অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কর্তৃপক্ষ। তিনি জানান, পুলিশ স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ওই শিক্ষিকার নাম ঠিকানা কিছুই স্কুল থেকে জানানো হচ্ছে না। তারা বলছে শিক্ষিকার কোনো আইডি নম্বর নেই এবং তার জীবন বৃত্তান্ত তাদের স্কুলে নেই।

শিশু শিক্ষার্থীর মা আরও জানান, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ফলে তার মেয়ে এখন মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। তার বড় কোন ক্ষতি হতে পারে।

মামলা দায়ের এরপর শিশু আয়াতকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আদালতে শিশু আয়াত ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সে আদালতকে বলেছে, 'শ্রেণিকক্ষে মিস সুপ্তি প্রায়ই তার সাথে খারাপ আচরণ করতেন। প্রায়ই কারণ ব্যতীত পানিশ (শাস্তি) করতেন।'

এরপর আদালতের কাছে শিশু আয়াত ওইদিনের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত