রাবিতে ছাত্রদলের হামলায় ৪ সাংবাদিক রক্তাক্ত

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৯ এএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহতরা হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। এ ছাড়া আরও ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন। বর্তমান তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

আহতরা জানান, রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ প্রায় ৮ জন তাদের ওপর হামলা চালান।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারার উদ্দেশে জিয়াউর রহমান হল গেটে আসেন ছাত্রদল নেতারা। এ সময় তাদের হাতে বস্তাভর্তি দেশীয় অস্ত্র রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ, ব্যাজবলসহ অন্য বিভিন্ন অস্ত্র দেখা যায়। এক পর্যায়ে প্রক্টর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এলে তারা অস্ত্র লুকিয়ে ফেলেন। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হল গেটে অস্ত্র হাতে দেখতে পেয়ে সমকাল ও আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ভিডিও করার জন্য এগিয়ে গেলে প্রক্টরের উপস্থিতিতে সমকালের প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো শুরু করেন ছাত্রদলের নেতারা। কয়েকজন আজকের পত্রিকা প্রতিনিধির মোবাইল কেড়ে নিতে তেড়ে আসেন। এর পর সেখানে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকে পেটানো শুরু করলে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের  ভেতরে ঢুকিয়ে তালা দিয়ে দেন।

হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, আগামীর সময়ের প্রতিনিধিকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে আগামীর সময় প্রতিনিধির মাথা ফেটে যায়। এ ছাড়া অন্য সাংবাদিকরা রক্ষা করার জন্য এগিয়ে এলে তাদের মারার হুমকি দেওয়া হয়।

জানা যায়, এ ঘটনার সূত্রপাত রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকিবুল তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। পরে দুজনই সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেন।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। তারা সেখানে রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থানের ঘোষণা দেন। ছাত্রদলের এ অবস্থানের সমালোচনা করে ফেসবুক পোস্টে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম লেখেন, ‘তারেক রহমানের সোনার ছেলেরা চাঁদাবাজি ছেড়ে দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকা- করছে।’ এ নিয়ে গত রাতে ছাত্রদলের ওই নেতাকর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ, নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। পুলিশকে ফোন দিয়েছি, কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত