লালপুরে তরুণী ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০০ পিএম

নাটোরের লালপুরে এক তরুণীকে অপহরণ করে ধর্ষণ, ধর্ষণের ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৮০ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লালপুর থানা পুলিশ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর ৪টা ২০ মিনিটে উপজেলার উত্তর লালপুর ও জোতদৈবকী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন-উত্তর লালপুরের আশিক জামান (২০), কাজল ইসলাম (১৯) এবং জোতদৈবকী গ্রামের শাকিল ইসলাম বাদল (২৩)।

পুলিশ জানায়, গত ৩ অক্টোবর দুপুরে ভুক্তভোগী তরুণী লালপুরের গোপালপুর রেলগেটের দক্ষিণ পাশে এক যুবকের সঙ্গে দেখা করতে যান। পরে আশিক জামান ও কাজল ইসলামের ইজিবাইকে করে গ্রিনভ্যালী পার্কে ঘোরার পর তাকে জোতদৈবকী গ্রামের শাকিলের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সেখানে ভুক্তভোগী তরুণীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে আশিক জামান ধর্ষণ করেন। এ সময় শাকিল ইসলাম গোপনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে শাকিলও তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর কাজল ইসলাম ঘরে প্রবেশ করে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একই দিন বিকেলে মেহেদী নামে এক ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়।

পরদিন ৪ অক্টোবর সকালে আশিক জামান ফোন করে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হলে শাকিলের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে লালপুর থানায় মামলা করেন।

লালপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইব্রাহিম খলিল  সোমবার ভোরে উত্তর লালপুরে আশিক জামানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আশিক, কাজল ও শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তারদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় লালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। 

পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, গ্রেপ্তার কাজল ইসলামের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে লালপুর থানায় চুরি, চোরাই মাল গ্রহণ ও ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলা রয়েছে। অপর গ্রেপ্তার শাকিল ইসলাম বাদলের বিরুদ্ধে একই বছরে মারামারি, হত্যাচেষ্টা ও হুমকিসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত