ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভাঙচুর

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

রাজধানীর শাহজাহানপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যু কেন্দ্র করে রেলওয়ে কলোনির উচ্ছৃঙ্খল লোকজন হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে। ওই ঘটনায় মৃত কিশোরীর পরিবার-হামলাকারী, সাংবাদিকরা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে তিনটি লিখিতভাবে থানায় অভিযোগ দিয়েছে। এতে দুই পক্ষের মারামারিতে কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। গত রবিবার রাত ১০টার দিকে কলোনির লোকজন জড়ো করে হাসপাতালের এক নম্বর ভবনে ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মারা যাওয়া রোগী মাহিমার কাজিন দাবি করা শাহরিয়ার সবুজ গণমাধ্যমকে বলেন, শনিবারে মাহিমা হাসপাতালে মারা যায়। তারপর থেকে সমাধানের দাবিতে তারা হাসপাতালে আসেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সমাধানের আশ্বাস দিয়েও কোনো সাড়া দেননি। পরে রাতে কলোনির পোলাপান নিয়ে হাসপাতালের সামনে অবস্থান করি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একজন ডাক্তার আসার পর সমাধান দেওয়া হবে। ওই ডাক্তার আসার কিছুক্ষণ পরেই হাসপাতালের মধ্য থেকে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ বিষয়ে শাহরিয়ার বলেন, তিনি কোনো টাকা চাননি। বরং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা করেছিল। এতে তারা এতে রাজি হননি।

রোগী মারা যাওয়ার পর পুলিশকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে শাহরিয়ার বলেন, পুলিশে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বারবার লাশ দাফন করতে বলেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কি ধরনের সমাধান চাওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি কিছু বলেননি।

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল মতিঝিল শাখার সহকারী পরিচালক রায়হান হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ওই রোগীকে ভর্তি করা হয় জরুরি অবস্থায়। তার এপেনটিসাইট বাস্ট হয়ে যাওয়ার পর। অপারেশনে আগেই রোগী মারা যায়। তারপর রেলের কলোনির কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোকজন গত দুদিন থেকে চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদা না পেয়ে রবিবার রাতে হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা আইনগত প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দিলেও ওই ব্যক্তি ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন পরে হাসপাতালে এসে অবস্থান নেন। আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিকেলে প্রায় ১০০ লোক জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে রোগীদের ভয়ভীতি দেখায়। তাদের গেট থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান নিতে বললে তাকে মারধর করা হয়। পরে দ্বিতীয়তলায় লেবার রুমে উঠে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন।

ঘটনার সময় হাসপাতালে থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, রোগী মারা যাওয়ার পর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে চলে যান। পরে রাতে একদল লোক এসে টাকা দাবি করে। সন্ধ্যার পর তারা আবার হাসপাতালে এসে কয়েকজনকে মারধর ও ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হাসপাতালের স্টাফরা তাদের ধাওয়া দেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত