ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে প্রতারণা, অভিযুক্ত সেই নারী আটক

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ছয়জনের কাছ থেকে ১৮ হাজার ও ১৬ হাজার টাকা করে মোট ৯৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নার্গিস আক্তার (৩৬) নামের এক নারীর বিরুদ্ধে।

দেড় মাস ধরে ‘আজ-কাল’ করে ঘোরানোর পর আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করলে সন্দেহ হয় ভুক্তভোগীদের। পরে কৌশলে বাকী টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেন তাঁরা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়ের বাজার এলাকার কৃষি ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নার্গিস আক্তার ওই ইউনিয়নের মৃগালী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী খোকন আলী।

অভিযোগকারীরা হলেন—নান্দাইল উপজেলার কামারগাঁও ইউনিয়নের দোরুয়া গ্রামের হোসনে আরা বেগম (৩২), রাবেয়া খাতুন (৫০), জোসনা খাতুন (৩০), আছিয়া খাতুন (৫৬), তন্নী আক্তার লিমা (৩৫) ও কনক মিয়া (৩৬)।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে নার্গিস তাঁদের ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেন। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে রাবেয়া খাতুন ১৮ হাজার টাকা এবং বাকি পাঁচজন ১৬ হাজার টাকা করে দেন। টাকা নেওয়ার পর দেড় মাস ধরে তাঁদের ‘আজ হবে, কাল হবে’ বলে ঘোরাতে থাকেন নার্গিস। একপর্যায়ে কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি।

রাবেয়া খাতুন ও কনক মিয়া বলেন, ‘আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। দেড় মাস ঘোরানোর পর আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করলে আমরা বুঝতে পারি, তিনি প্রতারণা করছেন। পরে বাকি টাকা দেব বলে তাঁকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘গত সোমবার আমি প্রতারণার বিষয়টি জানতে পারি। পরে বুদ্ধি খাটিয়ে প্রতারকের দাবি করা বাকি ৪ হাজার টাকা নেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে নার্গিসকে আঠারবাড়ীতে আসতে বলা হয়। পরে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আমাদের নাম ভাঙিয়ে নার্গিস এই প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।’

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই নারীকে থানা-পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।



সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত