ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের ডাক শিক্ষার্থীদের

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৩ এএম

ফ্রান্সে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তীব্র রূপ ধারণ করেছে। রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ইতিমধ্যে মার্সেই, স্ট্র্যাটসবার্গ, তুর্স, লিলসহ বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, চলমান এ আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়গুলো অবরোধ করছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। অন্তত ১৯০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই ব্যাপক ধরপাকড়ের মুখে গতকাল মঙ্গলবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ফ্রান্সের স্কুল শিক্ষার্থীরা। এই বিক্ষোভে আরও কয়েকটি সংগঠনও সমর্থন জানিয়েছে। শিক্ষকদের ইউনিয়ন এসএনইএস-এফএসইউ তাদের সদস্যদের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহে বিক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছে ফ্রান্সের প্রায় ১ হাজার ২০০ উচ্চবিদ্যালয়ে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে এক শিক্ষার্থীর হাত উড়ে গেছে। এর আগের সপ্তাহে আরেক শিক্ষার্থী মাথায় কাঁদানে গ্যাসের একটি গ্রেনেডের আঘাত লেগে গুরুতর আহত হয়। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লোকর্নু বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পূরণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান আয়োজক ইউনিয়ন সঁদিকাল লিসেয়েন (ইউএসএল) বলেছে, সরকার ‘কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়নি’। সংগঠনটি দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, ‘এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং আন্দোলনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন দমন-পীড়ন’ হিসেবে তারা যা বর্ণনা করছে, তার বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি পালন করা হবে।

তবে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে বলেন, ‘সহিংসতার ব্যাপারে আমরা কোনো ছাড় দেব না।’ বিক্ষোভের সময় শুধু স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধই করা হয়নি, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ২৪টি স্কুলে ‘আগুন দেওয়া ও ভাঙচুর’ করা হয়েছে। ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ৫ হাজার ৬০ জনের মধ্যে ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ১৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ জনকে বিচার-পূর্ব আটক রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৮০২ জনের বিরুদ্ধে মামলা চালানো হচ্ছে। তাদের মধ্যে ৩১৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

সেপ্টেম্বরে প্যারিসের একটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এই বিক্ষোভের শুরু হয়। পরে দ্রুতই তা অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা যেসব দাবিতে আন্দোলন করছেন তার মধ্যে রয়েছে- শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকার মতো বিষয়। প্রথমে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন শুরু করেন। পরে তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। ফ্রান্সের কট্টর বামপন্থি দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজ (এলএফআই)-এর নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ এই বিক্ষোভকে ১৯৬৮ সালের পর ‘হাইস্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে শক্তিশালী যুব আন্দোলন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ১৯৬৮ সালে ফ্রান্সে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল এবং ওই সময় লাখ লাখ শ্রমিক ধর্মঘটে গিয়েছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত