আগামী সপ্তাহেই পুরোদমে চালু হচ্ছে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ এএম

রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভয়াবহ হামলা ও লুটপাটের পর ক্ষতিগ্রস্ত ভবন মেরামত করে আগামী সপ্তাহ থেকেই পুরোদমে সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটির প্রধান ভবন মেরামত এবং রঙের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পরদিন থেকেই সীমিত পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেন কর্মীরা। তৃতীয় দিন থেকে দুটি কক্ষে টিকাদানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মূল ভবনের এক পাশের সেমিপাকা ঘরের টিনের ছাউনি নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। অন্য পাশের সেমিপাকা ঘরের কিছু মেরামতকাজ তখনও চলছিল।

কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, ‘এখনও সব কিছু ঠিক হয়নি। এই সপ্তাহের মধ্যে সব ধরনের মেরামতের কাজ শেষ হবে। তারপর আগামী সপ্তাহেই পুরোদমে সেবা চালু করতে পারবো বলে আশা করছি।’

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, সীমিত পরিসরে সেবা চালু হলেও প্রতিদিনই রোগী আসছেন। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ২০ জন নারী বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নিয়েছেন। কয়েক দিনে ৫০ জনের বেশি শিশু টিকা নিয়েছে।

বর্তমানে মূল ভবনের ১০২ নম্বর কক্ষে দুজন চিকিৎসক স্ত্রীরোগসংক্রান্ত পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশের একটি টেবিলে পুষ্টিবিদ ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একজন কর্মী নারীদের পরামর্শ দিচ্ছেন। ১০৩ নম্বর কক্ষে চলছে হাম-রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম।

কেন্দ্রের ক্লিনিক ইনচার্জ ডা. শাহনাজ ইসলামী বলেন, আমাদের গ্যাসের লাইন ছাড়া অন্য বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ সচল হয়েছে। দুটি কক্ষ ব্যবহার করতে পারছি।

তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত গাইনি, পরিবার পরিকল্পনা এবং নারীদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছি। কিন্তু যন্ত্রপাতি এখনো আগের মতো কিছুই নেই, তাই পরামর্শের মধ্যে সেবা সীমাবদ্ধ রয়েছে। আশা করি, আগামী সপ্তাহে পুরো কেন্দ্রের সব কক্ষ বসার উপযোগী হলে অন্য সব সেবাও চালু করা সম্ভব হবে।

কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে এবং সেখান থেকে কিছু সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। মেরামত শেষ হলে আরও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই হিসেবে এই সপ্তাহে মেরামত শেষ হবে এবং আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা সব ধরনের সেবা দিতে পারব।

মঙ্গলবার কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, ভাঙচুরের পর ছড়িয়ে থাকা ইটের টুকরো ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নতুন করে নির্মাণ করা দেয়ালগুলোতে রঙের কাজ চলছে। দরজা-জানালার গ্রিলও আনা হয়েছে এবং কয়েকটি কক্ষে তা বসানো হয়েছে। কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসার সদস্যদেরও সেখানে দেখা যায়।

কর্মরত মিস্ত্রি ইলিয়াস হোসেন বলেন, মঙ্গলবার দিনের কাজ শেষে রঙের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এক সপ্তাহ পর আবারও রঙের একটি প্রলেপ দিতে হবে।

সাভার থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসা আল্পনা আক্তার বলেন, আমার পাশের বাসার একজন গর্ভবতী তিনি এবং আমি কিছু বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য এসেছি।

বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের ব্যক্তিগত অর্থায়নে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সংস্কারকাজ চলছে।

কেন্দ্রের বাইরের দুটি সেমিপাকা ঘর নির্মাণ এবং মূল ভবনের মেরামত হলেও আপাতত দুটি কক্ষেই সেবা দেওয়া হচ্ছে। অন্য কক্ষগুলো পুরোপুরি ব্যবহারের উপযোগী না হওয়ায় সেখানে এখনও সেবা শুরু করা যায়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত