মেসিকে আইনস্টাইন ও দা ভিঞ্চির সঙ্গে তুলনা বিশ্বকাপজয়ীর

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচটি পুরো বিশ্বজুড়েই এক তীব্র আবেগের প্লাবন ভাসিয়ে নিয়েছে। বুয়েনস আয়ারসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে সেই ঐতিহাসিক ক্ষণে কাতার বিশ্বকাপের শিরোপাজয়ী দলের প্রায় সব সদস্য উপস্থিত থাকলেও মাঠের গ্যালারিতে ছিলেন না সাবেক সতীর্থ আলেহান্দ্রো 'পাপু' গোমেজ। তবে ভৌগোলিক দূরত্ব বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি—১৩ হাজার কিলোমিটার দূরে বসে ভিন্ন এক ভূমিকায় মেসির এই বিদায়যাত্রায় যুক্ত ছিলেন তিনি।

ইউরোপীয় ফুটবলে দীর্ঘ ১৬ বছরের অধ্যায় চুকিয়ে ৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার সম্প্রতি পাড়ি জমিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব 'ফোর্টে ভার্চুস'-এ। মেসির বিদায়ী ম্যাচের রাতে তিনি দুবাই থেকে উড়ে যান কুয়েতে। সেখানে এশিয়ার জনপ্রিয় স্পোর্টস নেটওয়ার্ক ‘শাশা স্পোর্টস’-এর বিশেষ স্টুডিওতে অতিথি হিসেবে যোগ দেন। সুপরিচিত ধারাভাষ্যকার ফারেস আওয়াদ ও মিসরীয় ফুটবল তারকা মিদোর সঙ্গে বসে সরাসরি ধারাভাষ্য ও বিশ্লেষণে তুলে ধরেন সাবেক অধিনায়কের মহত্ত্ব।

স্টুডিওতে বিশ্লেষকের ভূমিকায় বসে মেসির ফুটবলীয় দূরদর্শিতা ও চিন্তাশক্তির প্রশংসা করতে গিয়ে যেন ভাষা হারিয়ে ফেলছিলেন পাপু গোমেজ। মেসির অতুলনীয় দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “মেসির মস্তিষ্ক একজন সাধারণ মানুষের চেয়ে বহুগুণ দ্রুত কাজ করে। বলের নিয়ন্ত্রণ, গতি, ড্রিবলিং কিংবা নিখুঁত পাসের দিক থেকে হয়তো অনেক ভালো খেলোয়াড় দেখা যায়, কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর চিন্তাশক্তি একেবারে ধরাছোঁয়ার বাইরে।”

তিনি আবেগঘন কণ্ঠে আরও যোগ করেন, “মেসি ফুটবলের এমন এক বিরল প্রতিভা—যাঁকে কেবল আলবার্ট আইনস্টাইন কিংবা লিওনার্দো দা ভিঞ্চির মতো যুগান্তকারী মানুষদের সঙ্গেই তুলনা করা চলে। সাধারণ মানুষের চেয়ে তাঁর ভেতর ঈশ্বরপ্রদত্ত বাড়তি কিছু একটা আছে। মাঠে যখন খেলা চলে, তাঁর নিজস্ব গতির কারণে বোধহয় প্রতিপক্ষের প্রতিটি মুভমেন্ট তাঁর কাছে স্লো-মোশনে স্পষ্ট ভেসে ওঠে।”

ম্যাচ বিরতিকালে পাপু গোমেজ আগেভাগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বল জালে না পাঠানো পর্যন্ত মেসি মাঠ ছাড়বেন না। শেষ পর্যন্ত সেই ভবিষ্যদ্বাণীই সত্যি হয়। সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করানোর পর পেনাল্টি থেকে আলবিসেলেস্টেদের হয়ে নিজের ১২৬তম গোলটি হাঁকান ফুটবলের এই রাজপুত্র; পুরো ৯০ মিনিট খেলে মেটান ভক্তদের তৃষ্ণা।

প্রসঙ্গত, ভৌগোলিক ও ক্লাবসংক্রান্ত জটিলতায় কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের আরও চার সদস্য এই উৎসবে যোগ দিতে পারেননি। ইনজুরির কারণে ভিয়ারিয়াল ছাড়েনি ডিফেন্ডার হুয়ান ফয়েথকে। ইতালিয়ান ক্লাব রোমা ভ্রমণসংক্রান্ত ছাড়পত্র দেয়নি নাহুয়েল মোলিনা ও পাওলো দিবালাকে। আর কলম্বিয়ান ক্লাব অ্যাটলেটিকো নাসিওনালের জরুরি ম্যাচ থাকায় বুয়েনস আয়ারসে আসা হয়নি গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো আরমানির।
 
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত