মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞায় থমকে জেলেপল্লী, ঘরে ঘরে টানাপোড়েন

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

মা ইলিশের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। সারাদেশের মতো মিরসরাই উপজেলার নদীপথের অভয়াশ্রম ও সংশ্লিষ্ট নদ-নদীতেও বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত ইলিশ না পেলেও গত কয়েকদিনে জেলেদের জালে ইলিশ মাছ ধরা পড়া শুরু করেছে, তখনই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় জেলেদের মধ্যে গভীর হতাশা নেমে এসেছে।

নিষেধাজ্ঞা জেলেদের কষ্ট সাময়িক লাঘবে ১৫০০ জেলে পরিবারকে সরকারি সহায়তার ২৫ কেজি করে চাল দেবে মিরসরাই উপজেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণাও শুরু হয়েছে। জানানো হয়, রাত ১২টার পর থেকে নদ-নদীতে অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও কথাও।

তবে জেলেদের দাবি, ২৫ কেজি চালে কোনোভাবেই ২২ দিন চালানো যাবে না। তার ওপর সংসারের অন্য খরচ মেটাতে আবারও ধার-দেনায় পড়তে হবে। জেলেদের কষ্ট লাঘবে পরিবার প্রতি নূন্যতম ৫০ কেজি করে চাল বরাদ্ধের দাবি জানান তারা।

মৎসজীবী সুধাংসু দাশ বলেন, সাগরে জাল ফেলে মাছ যা পেয়েছি তার চেয়ে বেশি জাল কাটা পড়েছে। এতদিনে কিছু মাছ উঠছিল জালে। এর মধ্যে এলো নিষেধাজ্ঞা। জাল বুনন, পরিবারের খরচ, ছেলেমেয়ের পড়াশোনা সব চালাতে হবে ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে। সরকার আমাদের দিকে আরেকটু সুদৃষ্টি দিলে আমাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হতো।

মিরসরাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘মিরসরাই উপজেলায় তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৫০০ জেলে পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকেন এবং পরিবার নিয়ে কষ্টে না পড়েন, সে জন্য সরকারের খাদ্য সহায়তা হিসেবে এ চাল বিতরণ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি মাছের আড়ত, বাজার ও পরিবহনেও নজরদারি থাকবে। লক্ষ্য থাকবে কেউ যেন কোনোভাবেই মা ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির সুযোগ না পায়।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত