সোনালী ব্যাগের অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি যাবে গবেষণায়

প্রায় ২০ কোটি টাকার প্রকল্পের ৫৩টি আইটেম গবেষণায় ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পাটভিত্তিক নতুন পণ্য ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের লক্ষ্যেই সোনালী ব্যাগ প্রকল্পের অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ডেমরায় লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসে সোনালী ব্যাগ প্রকল্পের যন্ত্রপাতি হস্তান্তর ও ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গবেষণার ফলাফল শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে তা ব্যবহারিক ও বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগযোগ্য প্রযুক্তি ও পণ্যে রূপান্তর করতে হবে। সোনালী ব্যাগ প্রকল্পে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জিত হলেও উৎপাদন ব্যয় বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্পটি সমাপ্ত হওয়ার পর মূল্যবান যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল।

তিনি বলেন, এসব সম্পদ নষ্ট হতে না দিয়ে দেশের স্বার্থে গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০ কোটি টাকার এ প্রকল্পের যন্ত্রপাতিসহ প্রায় ৫৩টি আইটেম হস্তান্তর করা হচ্ছে।

মো. শরীফুল আলম বলেন, এ উদ্যোগ শুধু যন্ত্রপাতি হস্তান্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের ও জনগণের স্বার্থে গবেষণা এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু সিদ্ধান্তের অভাবে মূল্যবান সম্পদ নষ্ট হতে দেওয়া যায় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে পাটের সেলুলোজ, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য এবং পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে গবেষণায় কাজে লাগাতে হবে। গবেষণার সুযোগ অন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষক, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং বেসরকারি খাতের গবেষকদের জন্যও উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি। এতে এ উদ্যোগের সুফল সবাই গ্রহণ করতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশি-বিদেশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে বন্ধ মিলগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু মিল চালু হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। লতিফ বাওয়ানী ও করিম জুট মিলও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ প্রসঙ্গে মো. শরীফুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মূল্য সংযোজিত পণ্য উদ্ভাবন ও রপ্তানি বাড়াতে গবেষণা প্রয়োজন। পাশাপাশি পাটবীজে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, বিএডিসি ও কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাটপাতা ও পাটকাঠির ব্যবহার বাড়িয়েও নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিজেএমসি, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের যন্ত্রপাতি ও মালামাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন।

সমঝোতা স্মারকে বিজেএমসির পক্ষে চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার, এনডিসি, পিএসসি; বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের পক্ষে সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. এ কে এম মহিউদ্দিন স্বাক্ষর করেন।

উল্লেখ্য, পাটের সেলুলোজ থেকে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল ‘সোনালী ব্যাগ’ উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে বিজেএমসির অধীনে গবেষণাভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে পণ্যের গুণগতমান উন্নয়নে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে অধিকতর গবেষণা পরিচালিত হয়।

উৎপাদন ব্যয়, ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যের পরিবেশগত প্রভাব এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনায় মূল প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত হয়। গবেষণায় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জিত হলেও উৎপাদন ব্যয় বাণিজ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আনা সম্ভব না হওয়ায় প্রকল্পটি বাণিজ্যিক সফলতা অর্জন করতে পারেনি।

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সালাম পিন্টু, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বিজেএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার, এনডিসি, পিএসসি এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকেরাও উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত