জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। তবে সেই অপেক্ষার মধুর প্রতিদান পেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে রুনা আক্তারের নাটকীয় গোলে উজবেকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বাছাইপর্বের 'এইচ' গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পাওয়া এই জয়ে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল বাংলাদেশের মেয়েরা। রবিবার ফিলিপাইনকে হারাতে পারলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আগামী বছর চীনে অনুষ্ঠেয় মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করবে আলপি আক্তাররা।
তাসখন্দের দোস্তলিক স্টেডিয়ামের অনুশীলন মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় সাইফুল বারী টিটুর শিষ্যরা। যার ফল মেলে খেলা শুরুর মাত্র চতুর্থ মিনিটেই। মাঝমাঠ থেকে ফাতেমা আক্তারের বুদ্ধিদীপ্ত পাস খুঁজে নেয় ডান প্রান্তে থাকা আলমিনাকে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে উজবেকিস্তানের গোলরক্ষক মারিয়া খালকুলোভা পোস্ট ছেড়ে সামনে এগিয়ে এলে দারুণ এক চিপে বল জালে জড়িয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন আলমিনা (১-০)।
তবে ম্যাচের ১৭ মিনিটে রক্ষণের ভুলে সমতায় ফেরে আয়োজক দেশটি। নিজেদের বক্সের সামনে আইরিন খাতুন ভুল করে বসলে সুযোগটি কাজে লাগান ফারাঙ্গিজ লাকায়েভা। বল কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেঘলা রানি রায়কে পরাস্ত করে জালে পাঠান তিনি (১-১)।
বিরতির পর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠে খেলা। দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। বাংলাদেশের পক্ষে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ এক চেষ্টা চালান আলপি আক্তার, কিন্তু উজবেক গোলরক্ষকের দক্ষতায় তা গোল হতে পারেনি। অন্যদিকে সময়ের সাথে সাথে উজবেকিস্তানের চাপ বাড়লেও পাল্টা আক্রমণে জয় ছিনিয়ে আনে বাংলাদেশ। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সুরভী রানির থ্রু পাস থেকে উজবেকিস্তানের গোলরক্ষককে একা পেয়ে যান রুনা আক্তার। ঠাণ্ডা মাথার নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মাতান দলকে (২-১)।
উজবেকিস্তানকে হারিয়ে স্বস্তি মিললেও দলের সামনে এখন বড় পরীক্ষা ফিলিপাইন ম্যাচ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে এই ম্যাচটিকে বেশ বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন কোচ সাইফুল বারী টিটু। তিনি বলেন, “জয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ফিলিপাইনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভালো করতে হলে আমাদের খেলার মান আরও বাড়াতে হবে। ওদের ম্যাচ আমরা দেখেছি এবং তাদের শক্তির জায়গাগুলো সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করেই আমরা মাঠে নামব।”