পদ রয়েছে, দায়িত্বে রয়েছেন চিকিৎসকও। কিন্তু বাস্তবে গত চার বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত তিনি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি সাড়া। এমনকি একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও মেলেনি কোনো জবাব। এতে ব্যাহত হচ্ছে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রটির মেডিকেল অফিসার হিসেবে কাগজে-কলমে দায়িত্বে রয়েছেন ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়ন।
কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২ সাল থেকে কোনো ছুটি না নিয়েই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়ন। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাতগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে চিকিৎসক না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে রোগীদের। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও সেখানে বিকল্প কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে কেউ যাতে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত না হন, সে জন্য দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়নবাসী।
চার বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়নের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফ ভূঁইয়া বলেন, ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়নের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তাকে একাধিকবার চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো চিঠির জবাব পাওয়া যায়নি। কর্মস্থলে অনুপস্থিত হওয়ার পর থেকে ওই চিকিৎসক বেতনও নিচ্ছেন না।
তিনি আরও বলেন, ডা. রাইয়ানার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু অধিদপ্তর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় কাগজে-কলমে এখনও তিনি সাতগ্রাম ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার পদে রয়েছেন। ফলে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।