মেসির যুগের রেকর্ড ছুঁয়ে টানা আট জয় বার্সেলোনার

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪২ এএম

গেতাফেকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে লা লিগায় ঐতিহাসিক এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে বার্সেলোনা। টাটা মার্তিনোর অধীনে ২০১৩-১৪ মৌসুমে লিওনেল মেসিদের অপ্রতিরোধ্য যুগে টানা আট ম্যাচ জয়ের যে অনন্য সূচনা দেখেছিল কাতালানতা, এক দশক পর হান্সি ফ্লিকের অধীনে আবার সেই রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলল তারা। আর স্মরণীয় এই জয়ের রাতে ন্যু ক্যাম্পের মূল আকর্ষণে ছিলেন ইংলিশ উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন, যিনি বার্সার জার্সিতে প্রথম গোলের দেখা পাওয়ার পাশাপাশি অল-রাউন্ড পারফরম্যান্সে দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন।

নিউক্যাসেল থেকে এই গ্রীষ্মে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই মাঠের পারফরম্যান্সে নজর কেড়ে আসছিলেন গর্ডন। সতীর্থদের দিয়ে গোল করালেও নিজের গোল খরা কাটাতে পারছিলেন না এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।

তবে গতকাল রাতের ম্যাচে বাঁশি বাজার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় ঘুচল সেই অপেক্ষা। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ড্রিবলিং করে প্রতিপক্ষের তিন ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে বক্সে ঢোকেন গর্ডন, এরপর তার নেওয়া নিচু জোরালো শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে দিক বদলে আশ্রয় নেয় জালে। বার্সেলোনা ক্লাবের হয়ে প্রথম গোলের আনন্দ পাওয়ার পাশাপাশি পুরো প্রথমার্ধ জুড়েই গেটাফে রক্ষণভাগের জন্য আতঙ্কের নাম হয়ে ছিলেন গর্ডন।

জাতীয় দলে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিং চোট পাওয়ায় বার্সার সর্বোচ্চ গোলদাতা রাফিনহা ছাড়াই একাদশ সাজাতে হয়েছিল। এই ব্রাজিলিয়ান তারকা অনুপস্থিতি ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ব্যস্ত সূচি নিয়ে ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন বার্সা কোচ।

তিনি জানিয়েছিলেন, গেতাফের বিপক্ষে ম্যাচ এবং আগামী সপ্তাহে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গালাতাসারাই সফরের ম্যাচে রাফিনহাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিলের হয়ে খেলার সময় পাওয়া ডান পায়ের পেশির চোট থেকে সে সেরে উঠছে।

তবে ব্রাজিলের হয়ে খেলা তার সতীর্থ গাব্রিয়েল জেসুস রাফিনহার অভাব টের পেতে দেননি। ফ্লিকের অধীনে প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েই ২৯তম মিনিটে দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। সফরকারীদের ডিফেন্ডার জায়িদ রোমেরো নিজ বক্সে ভুল পাস দিয়ে বসলে দারুণ সতর্কতায় বল কেড়ে নিয়ে ঠান্ডা মাথার নিচু ফিনিশিংয়ে গোলকিপার ডেভিড সোরিয়াকে পরাস্ত করেন জেসুস। 

এর আগে এরিক গার্সিয়ার দূরপাল্লার জোরালো শট কিংবা দানি ওলমোর আক্রমণ রুখে দিলেও গেতাফেকে ম্যাচে ফেরাতে পারেননি সোরিয়া।

কোচের ভরসার মান রেখে দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার বজায় রাখে স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল ডান প্রান্ত থেকে বক্সে এক বাঁকানো ক্রস বাড়ান, আর তা থেকে নিখুঁত ট্যাপ-ইনে ৩-০ গোলের বড় জয় সুনিশ্চিত করেন ফরাসি রাইট-ব্যাক জুলস কুন্দে। এটি ছিল বার্সেলোনার জার্সিতে কুন্দের ১৯৪তম ম্যাচ; এর মাধ্যমে কাতালানদের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফরাসি ফুটবলার হিসেবে এরিক আবিদালকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখে পাওয়া এই জয় দিয়ে লিগ টেবিলে রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শীর্ষে অবস্থান আরও মজবুত করল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। এছাড়া সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ মৌসুমে ৯ ম্যাচের সবকটিতে জিতল বার্সা। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত