গুলশানে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৩

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

ঢাকার গুলশানে বর্জ্য অপসারণের কাজ নিজেদের হাতে তুলে দিতে হুমকি এবং তা না হলে প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় খিলক্ষেতের আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. আনোয়ার (৩০), মো. নাজমুল (২৫) ও মো. জিদান মিয়া (১৯)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কার্যাদেশের ভিত্তিতে গুলশান সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে গুলশান আবাসিক এলাকায় গৃহস্থালি বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার কাজ পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি ‘মাহাবুব ও রবিন গ্রুপ’ পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি সোসাইটির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হুমকি দিতে শুরু করেন। তারা ‘রুবি এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের নামে লিফলেট বিতরণ করে বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য অপসারণের জন্য টাকা দাবি করছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ অক্টোবর বিকেলে কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি গুলশান সোসাইটির কার্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ করেন। এ সময় তারা উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে বর্জ্য অপসারণের কাজ তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

কাজ হস্তান্তর না করলে প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে তারা জানান। অন্যথায় সোসাইটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বড় ধরনের ক্ষতি করা এবং হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তাঁরা।

ঘটনার পর গুলশান থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় খিলক্ষেতের আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় গুলশান থানায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারায় মামলা হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ১৪।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত