ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক, অপমানজনক ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বিভাগের একটি ক্লাস চলাকালে কালো মাস্ক ও নিকাব পরে লাল কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা এ প্রতিবাদ জানান। এ সময় অভিযোগের শিকার শিক্ষার্থীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া এবং একই শ্রেণিকক্ষে ছয়জন ছাত্রকে এক বেঞ্চে বসতে দেখে তাদের ‘গে’ ও ‘গরীব’ বলে মন্তব্য করার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একই সঙ্গে এসব আচরণকে সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধেও প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তারা।
কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘রেড কার্ড টু রেইসিস্ট, ক্ল্যাসিস্ট অ্যান্ড হিপোক্রিট’ এবং ‘রেড কার্ড টু দোজ হু সাপোর্ট ডিসক্রিমিনেশন, হিউমিলিয়েশন অ্যান্ড বুলিং।
শিক্ষার্থীরা জানান, বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি এসব আচরণকে সমর্থনকারীদেরও তারা প্রত্যাখ্যান করছেন।
এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নায়েম বলেন, সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে নিকাব পরার কারণে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দেন। এ ছাড়া একই ক্লাসে ছয়জন ছাত্রকে এক বেঞ্চে বসতে দেখে তাদের ‘গে’ ও ‘গরীব’ বলে মন্তব্য করেন। পরে নিজের ফেসবুক লাইভে তিনি এসব অভিযোগের কোনোটি সরাসরি সমাধান না করে একপক্ষীয় ও এআইনির্ভর বক্তব্য দেন।
তিনি আরও বলেন, সামিনা লুৎফা, শিক্ষক নেটওয়ার্ক ও তাসনিম সিরাজ মাহবুবের অন্যান্য অনুসারী তাকে সমর্থন করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের মূল অপরাধী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। সোমবারের প্রতীকী প্রতিবাদ তাদের সবার বিরুদ্ধে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, এ মুহূর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বর্তমানে অফিসে নেই। শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলে তা পর্যালোচনা করে বিষয়টি সম্পর্কে জানা যাবে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্লাস কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়।
এদিকে তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে ক্লাস কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিবাদে গত রবিবার (১১ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে মুখে কালো কাপড় বেঁধে অভিনব প্রতিবাদ জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষক নেটওয়ার্কের নেত্রী সামিনা লুৎফা। একই সঙ্গে অন্য শিক্ষকদেরও এ ধরনের প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড প্রদর্শন এবং মুখে কালো মাস্ক ও নিকাব পরে প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নায়েমের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও তাঁর প্রতি সমর্থন জানানো ব্যক্তিদের অবস্থানের বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি ছিল প্রতীকী প্রতিবাদ।
‘নিকাব খুলতে বলিনি’, ঢাবিতে সেই ঘটনায় শিক্ষকের ভিডিও বার্তা