মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১০ নম্বর নাজিরাবাদ ইউনিয়নের নারাইনপাশা গ্রামে ক্ষুদ্র চা-দোকানদার দুরুদ মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে ঘটনার ১৮ বছর পর ছাদিক মিয়া নামের এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। রায়ে চার্জশিটভুক্ত অন্য ৭ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় প্রদান করেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩ নম্বর আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে সদর উপজেলার নারাইনপাশা এলাকার ক্ষুদ্র চা-দোকানদার দুরুদ মিয়া তার দোকানে আসা একই এলাকার ছাদিক মিয়ার কাছে চায়ের বিল বাবদ পাওনা ১ হাজার ২৬৩ টাকা চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে চলে যান। কিছুক্ষণ পর ছাদিক মিয়া দলবল নিয়ে দুরুদ মিয়ার দোকানে ফিরে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা দুরুদ মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই দিন রাতেই নিহতের ছেলে মকবুল মিয়া বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা এজাহারভুক্ত ৮ জনকেই অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন। মামলাটির দীর্ঘ শুনানি শেষে ঘটনার ১৮ বছর পর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মামলার প্রধান আসামি ছাদিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়।
এই মামলায় অন্য আসামি তছকির মিয়া, সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, সাইফুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিক মিয়া ও আছাব মিয়াকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।
মামলার রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছাদিক মিয়া ও তার স্বজনেরা আদালত প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক বলেন, দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচার কার্যক্রমের মাধ্যমে মামলার জট কমানো সম্ভব হচ্ছে। এতে বিচারপ্রার্থীরা উপকৃত হচ্ছেন।
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, প্রকৃত আসামির দণ্ডের মাধ্যমে বাদীপক্ষের পাশাপাশি আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়বে।