দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি, অনড় শিক্ষার্থীরা

ভিডিও বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘সোমবার দুপুর থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হচ্ছে না। সারা রাত নির্ঘুম কাটানোর পর মাথা ও বুকে ব্যথা বেড়েছে। এখন কারও সাথে কথা বলার মতো পরিস্থিতি নেই।’

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের অবরুদ্ধ অবস্থার ২৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। উপাচার্য ভবনের ভেতরে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান মোট ১২ জন আটকে রয়েছেন।
 
খাবার, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটানোর পর উপাচার্য মাথা ও বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা জানিয়ে জরুরি চিকিৎসাসেবার আকুতি জানিয়েছেন। তবে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা দুই চিকিৎসক দুই ধরনের মন্তব্য করায় উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।
ভিসি তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশের তালাবদ্ধ করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. সাহাব উদ্দিন উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে জানান, উপাচার্য শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন এবং তার রক্তচাপও স্বাভাবিক। অবরুদ্ধ থাকার কারণে কেবল কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছেন বলে ডা. সাহাব উদ্দিন উল্লেখ করেন। বুকে ব্যথার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপাচার্য তাকে এমন কোনো কষ্টের কথা জানাননি।

তবে এর কিছুক্ষণ পর দুপুর ২টার দিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. টিপলু কান্তি দে এসে উপাচার্যের শারীরিক পরীক্ষা করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, উপাচার্য বুকে ব্যথা অনুভব করছেন বলে জানিয়েছেন এবং তার রক্তচাপও বেশি পাওয়া গেছে। উপাচার্যকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন বলে তিনি মতামত দেন। এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট মন্তব্যের ওপরই ভরসা রাখছেন।
ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা
অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘সোমবার দুপুর থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হচ্ছে না। সারা রাত নির্ঘুম কাটানোর পর মাথা ও বুকে ব্যথা বেড়েছে। এখন কারও সাথে কথা বলার মতো পরিস্থিতি নেই।’

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৯টায়, যখন উপাচার্য পদে যোগদানের ১৮ দিন পর তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন ড. শেখ শরীফুল আলম। খবর পেয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার মধ্যে তাকে কার্যালয় ছাড়ার আলটিমেটাম দেন।
 
নির্দিষ্ট সময়ে তিনি বের না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টায় ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ কেটে দিয়ে বাইরে অবস্থান নেন তারা। রাতে রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অং ছিং মারমা এসে সংযোগ চালুর অনুরোধ জানালেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট বক্তব্য—উপচার্য নিজ হাতে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা না দেওয়া পর্যন্ত কিংবা আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শিক্ষক-কর্মচারিদের সংহতি

গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা নিয়োগের পর থেকেই আন্দোলনে নামেন, যা পরবর্তীতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে রূপ নেয়। তীব্র প্রতিরোধের মুখে ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে যোগদান করলেও আন্দোলনের কারণে গত ১৮ দিন ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেননি নতুন উপাচার্য।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত