আড়াইহাজারে চিকিৎসক সংকটে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৫ পিএম

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় সরকারি চিকিৎসাসেবা কার্যত সংকটের মুখে পড়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে পাঁচটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও ফার্মাসিস্ট দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা, আবার কোথাও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে কেন্দ্রের কার্যক্রম।

পাঁচটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারটিতে চিকিৎসক পদায়িত থাকলেও তাঁরা নিজেদের সুবিধাজনক স্থানে সংযুক্তি বা প্রেষণে রয়েছেন। অন্যদিকে, একটি কেন্দ্রের চিকিৎসক ছুটি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। ফলে এসব কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি অন্যান্য পদ শূন্য থাকায় কালাপাহাড়িয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে।

পাঁচটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে সাতগ্রাম উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবস্থা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। কেন্দ্রটির মেডিক্যাল অফিসার ডা. রাইয়ানা আক্তার শিয়ন (কোড নম্বর ১৩৯৬৬২) ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল যোগদান করেন। তবে ২০২২ সাল থেকে তিনি ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠালেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। বর্তমানে একজন মিডওয়াইফ ও একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে কেন্দ্রটির কার্যক্রম কোনো রকমে চলছে।

ব্রাহ্মন্দী উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রেও চিকিৎসক সংকট প্রকট। কেন্দ্রটির মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. আব্দুস সালাম ২০১৭ সাল থেকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে সংযুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া কেন্দ্রটির উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারকে চৈতনকান্দা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংযুক্ত করা হয়েছে। ফলে ব্রাহ্মন্দী উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম চলছে একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন মিডওয়াইফ দিয়ে। এতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

হাইজাদী উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার মেহেদি হাসান শিমুলকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রটিতে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ও অফিস সহায়কের পদও শূন্য রয়েছে। ফলে একজন ফার্মাসিস্ট দিয়েই চলছে পুরো কেন্দ্রের কার্যক্রম।

চৈতনকান্দা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মির্জা সাইদুল ইসলাম ঢাকার কুর্মিটোলা মেডিকেল হাসপাতালে সংযুক্ত রয়েছেন। কেন্দ্রটিতে ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়কের পদ শূন্য থাকায় একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে কোনো রকমে স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, কালাপাহাড়িয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফারুক ইসলাম মুগদা হাসপাতালে সংযুক্ত রয়েছেন। কেন্দ্রটির একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারও আট বছর ধরে ঢাকায় সংযুক্তিতে রয়েছেন। চিকিৎসকসহ অন্যান্য পদে জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে।

শুধু উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেই নয়, আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সেখানে পদায়িত অনেক চিকিৎসক সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনের বেশি আসেন না। চিকিৎসকেরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন হাসপাতালে আসেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। এতে পুরো উপজেলার সরকারি চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে মানুষ বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আরিফ ভূঁইয়া জানান, অধিদপ্তরের নির্দেশে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকদের উপজেলায় সংযুক্ত রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে অধিদপ্তর থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিষয়টি এখনো ঝুলে রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এস এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিনি এ জেলায় নতুন যোগদান করেছেন। সপ্তাহে তিন দিন অফিস করার কোনো সুযোগ নেই। এসব বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত