রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি বলেন, অনুমোদন পেলে দ্রুতই নতুন সচিবালয়ের নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই কাজ শেষ করার চেষ্টা থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৫৫ নির্বাহী প্রকৌশলীর লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান মন্ত্রী।
জাকারিয়া তাহের বলেন, প্রায় চার মাস আগে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়। প্রথমে বর্তমান সচিবালয়ের এক নম্বর ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের চিন্তা ছিল। পরে মন্ত্রিসভার আলোচনায় সংসদ ভবন ও আগারগাঁও এলাকাকে দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি আসে। এরপর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমান সচিবালয়ে জায়গার সংকট, পার্কিংয়ের অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং পুরনো ভবনগুলোকে নতুন সচিবালয় নির্মাণের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দপ্তর সচিবালয়ের বাইরে রয়েছে। অধিকাংশ ভবন ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত। এ ক্ষেত্রে নতুন সচিবালয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনায় ৩০ থেকে ৩২ লাখ বর্গফুট জায়গা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
লটারিতে বদলি ১৫৫ নির্বাহী প্রকৌশলী : গণপূর্ত অধিদপ্তরের ১৫৫ নির্বাহী প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি-পদায়ন করা হচ্ছে। এর আগে ৩০ জুলাই ৭৬৭ উপসহকারী প্রকৌশলী, আগস্টে ২৫৪ উপসহকারী প্রকৌশলী এবং ১৬ আগস্ট ২১৯ সহকারী প্রকৌশলী ও ১৯০ উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে একই পদ্ধতিতে বদলি করা হয়। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩০ জনের বদলি-পদায়ন হয়েছে।
গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের চাকরির রেকর্ড ও প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে পদায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যোগ্যতা অনুযায়ী পদায়ন, বদলি বাণিজ্য বন্ধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এ উদ্যোগের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ তিন-চারটি জায়গায় আপাতত বদলি স্থগিত থাকবে। বিশেষ মানবিক প্রয়োজন থাকলে কর্মকর্তারা আবেদন করতে পারবেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের পর রাজউকসহ মন্ত্রণালয়ের অধীন অন্য প্রতিষ্ঠানেও একই পদ্ধতিতে বদলি-পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী জানান, সরকারি জমির তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোকে ল্যান্ড ব্যাংক তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন জমি সরকারের দখলে রয়েছে, আর কোনটি দখলের বাইরে, তা চিহ্নিত করে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় আনার কাজ চলছে। আবাসন বরাদ্দেও স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রী জানান, এ সপ্তাহের মধ্যেই এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।