সান সিরোর চেনা গ্যালারিতে এমন বিপর্যয় আগে কখনো দেখেনি ইন্তার মিলান। ঘরের মাঠে বেলজিয়ান ক্লাব 'ক্লাব ব্রুগা'র কাছে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে নিজেদের ইউরোপিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা চার ম্যাচ হারের লজ্জায় ডুবেছে ৩ বারের চ্যাম্পিয়নরা।
ইতিহাসজুড়ে ইতালিয়ান ক্লাবদের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ইন্তারের মাঠে বসে তাদেরই জালে চার-চারটি গোল দিয়ে এক অলৌকিক রূপকথা লিখল ব্রুগা, আর সেই রূপকথার নায়ক তালিয়ান বংশোদ্ভূত ২২ বছর বয়সী জার্মান তরুণ সেনসেশন নিকোলো ট্রিসোলডি।
এদিকে ইন্তার মিলানের মাঠে কোনো বেলজিয়ান ক্লাব কর্তৃক ইতালিয়ান পরাশক্তিকে চার-চারটি গোল দেওয়ার এই ইতিহাস আগে কখনো দেখেনি ইউরোপিয়ান ফুটবল। ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকদের ওপর আক্রমণের পসরা সাজায় ব্রুগা। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে কার্লোস ফরবসকে বক্সে ফাউল করে বসেন ইতালিয়ান ক্লাবের মিডফিল্ডার হাকান চালহানোলু। স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে ব্রুগাকে প্রথম লিড এনে দেন ট্রিসোলডি। বিরতির ঠিক আগে মার্কাস থুরাম ও ফেদেরিকো ডিমারকোর দারুণ এক ব্যাকহিল পাসের সমন্বয়ে অধিনায়ক লাউতারো মার্তিনেজ গোল করে দলকে সমতায় ফেরান (১-১)।
তবে প্রথমার্ধের সেই স্বস্তি দ্বিতীয়ার্ধে বিষাদে রূপ নেয় ইন্তারের ভয়াবহ রক্ষণাত্মক ভুলের কারণে। ম্যাচের ঘণ্টাখানেক পেরোতেই নেরাজ্জুরিদের স্প্যানিশ গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেজের এক মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে ফাঁকা পোস্টে নিজের দ্বিতীয় গোলটি জমা করেন ট্রিসোলডি। এর মিনিট পনেরো পর ব্রুগার প্রতিআক্রমণ সামলাতে আবার ব্যর্থ হয় ইন্টারের নড়বড়ে ডিফেন্স লাইন। ডি-বক্সে আলগা হওয়া বল জালে জড়িয়ে সান সিরোকে স্তব্ধ করে নিজের স্বপ্নের হ্যাটট্রিক পুরো করেন এই উদীয়মান তারকা (৩-১)।
ক্যারিয়ারের এই অলৌকিক রাত শেষে নিজের আবেগ চেপে রাখতে পারেননি ম্যাচের নায়ক। ট্রিসোলডি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘এটি ছিল এক অবিশ্বাস্য ও অসাধারণ রাত। ফুটবলের এমন মহিমান্বিত রাতের স্বপ্ন আমি বহুবার দেখেছি, আর আজকের এই রাতটিই ছিল আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দর স্বপ্ন।’
এদিকে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে দুই দলের ফুটবল যেন রক্তগরম করা এক উন্মাদনায় রূপ নেয়। ৮১তম মিনিটে লাউতারো নিজের দ্বিতীয় গোল করে সান সিরোর গ্যালারিতে আশার সলতে জ্বালিয়েছিলেন (৩-২)। কিন্তু ইন্টারের সেই উদযাপনের রেশ কাটার আগেই ৮৭তম মিনিটে প্রতিআক্রমণে স্বাগতিকদের রক্ষণকে নাচিয়ে ব্রুগার হয়ে চার নম্বর গোলটি করেন রোমিও ভার্মান্ট (৪-২)। এরপর অতিরিক্ত সময়ের (৯৩তম মিনিটে) বদলি ফরোয়ার্ড অ্যাঞ্জ-ইয়োয়ান বোনি চমৎকার ফিনিশিংয়ে এক গোল শোধ করলেও তা কেবল ইন্তারের হারের ব্যবধানই কমিয়েছে।
ফুটবল পরিসংখ্যান সংস্থা অপ্টা -র তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপিয়ান কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম টানা চার ম্যাচে পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো ৩ বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ইন্তার মিলানের। গত মৌসুমে নকআউট পর্বে নরওয়েজিয়ান ক্লাব বোডো/গ্লিমটের কাছে দুই লেগে হারের পর চলতি আসরে রিয়াল মাদ্রিদ ও এবার ক্লাব ব্রুগার কাছে হেরে ৩৬ দলের পয়েন্ট টেবিলে তারা নেমে গেছে ২৮ নম্বরে। উল্টোদিকে, সান সিরোর বুকে ঐতিহাসিক এই জয়ে ৩৬ দলের টেবিলে ১৮ নম্বরে লাফিয়ে উঠেছে ক্লাব ব্রুগা।
নরকে স্বর্গীয় জয় বার্সেলোনার