আরও ৯ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ট্রাফিগুরার কাছ থেকে এলএনজি কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের ব্যয়ও বেড়েছে।

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের মধ্যে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে আরও ৯ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই এলএনজি সরবরাহের দর নির্ধারণ করা হয়েছে জেকেএম সূচকের চেয়ে প্রতি এমএমবিটিইউতে ০.১০ ডলার কম। তবে দুই পক্ষের সম্মতিতে কার্গোর সংখ্যা কমবেশি হতে পারে।

মঙ্গলবার  (১৩ অক্টোবর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৪৯তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই দিন অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৩৩তম সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি এলএনজি ক্রয় প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। প্রথম প্রস্তাবে চেনিয়েরে মার্কেটিং ইন্টারন্যাশনাল এলএলপি ও ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের দেওয়া সরবরাহ প্রস্তাব সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের কথা বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড, সাহারা এনার্জি রিসোর্স লিমিটেড এবং শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং মিডল ইস্ট লিমিটেড এফজেডই থেকে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি কেনার পাশাপাশি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের দুটি ক্রয় চুক্তির ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এর মধ্যে নির্মাণ চুক্তির মূল মূল্য ছিল প্রায় ২০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। ভেরিয়েশনের মাধ্যমে ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি যোগ হওয়ায় চুক্তির মূল্য বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। এতে মূল চুক্তির তুলনায় ব্যয় বাড়ছে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

প্রকল্পটির নির্মাণকাজ করছে জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন ও ফুজিতা করপোরেশন এবং কোরিয়ার স্যামসাং সি অ্যান্ড টি সমন্বিত অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম।

অন্যদিকে পরামর্শক সেবার চুক্তিতে ব্যয় বৃদ্ধির হার আরও বেশি। এই চুক্তির মূল মূল্য ছিল প্রায় ৭৭২ কোটি টাকা। ভেরিয়েশনের মাধ্যমে ৪০৫ কোটি টাকা যোগ হয়ে সংশোধিত মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ছে ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

পরামর্শক সেবার কাজ করছে জাপানের নিপ্পন কোয়ি ও ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্টস গ্লোবাল, সিঙ্গাপুরের সিপিজি কনসালট্যান্টস এবং বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টসের সমন্বিত যৌথ উদ্যোগ।

এদিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

এর মধ্যেই প্রকল্পটির মেয়াদ ও ব্যয় আবারও বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন একনেক।
প্রকল্পের মাত্র শূন্য দশমিক সাত শতাংশ কাজ বাকি থাকতেই ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৮৪৭ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। তৃতীয় সংশোধনের পর প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়েছে ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

এদিনের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চিনি ও সার আমদানির কয়েকটি প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে দুই দফায় ৫ হাজার মেট্রিক টন করে চিনি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

এছাড়া সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস থেকে ৪০ হাজার টন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব থেকে ৪২ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি রাশিয়ার প্রোডিনটর্গ ও কানাডার সিসিসি থেকে এমওপি এবং সৌদি আরবের মা'আদেন থেকে ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত