ইনুর সাজা কমিয়ে খালাস চেয়ে আপিল

কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় তাকে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে রায়ে বলা হয়, তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে। ফলে তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫০ এএম

জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও ১ সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে এ আপিল আবেদন জমা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে তার আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। তিনি বলেন, হাসানুল হক ইনুর পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে খালাস চেয়ে আপিল করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পরে ৫ অক্টোব রাষ্ট্রপক্ষ তার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আপিল করে।

সেদিন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি গাজী এম এইচ তামীম বলেছিলেন, ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজাকে ‘অপর্যাপ্ত মনে করায়’ প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপিল করা হয়েছে। এতে ১১টি গ্রাউন্ড বা যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

আপিলটি গ্রহণ করে ইনুকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে ‘সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার’ আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় ইনুর বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগে তাকে ১০ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে রায়ে বলা হয়, তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে। ফলে তাকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে।

দুটি অভিযোগে তাকে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেয় আদালত।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় দেয়। ইনু ছিলেন এ মামলার একমাত্র আসামি।

মামলায় তার বিরুদ্ধে উসকানি, ষড়যন্ত্র, সহিংসতা, নিপীড়ন এবং জুলাইয়ের আন্দোলন দমনে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগসহ আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তৃতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ২৬ অগাস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত