চ্যাম্পিয়নস লিগে গতকাল রাতে আতলেতিকোর মাদ্রিদের মাঠে ২-০ গোলের তিক্ত হার, গত পাঁচ ম্যাচে জয়হীন পারফরম্যান্স এবং ৪০ বছরের মধ্যে লিগে সবচেয়ে বাজে সূচনা, সব মিলিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পরিস্থিতি এখন টালমাটাল। কিন্তু মেত্রোপোলিতানো স্টেডিয়ামে হারের ধাক্কার চেয়েও ওল্ড ট্রাফোর্ডে বড় ভূমিকম্প এনে দিয়েছে দলটির আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকার।
ম্যাচ শেষে সোজাসুজি ক্লাবের শীর্ষ নেতৃত্ব ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর জেসন উইলকক্সের দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি। পর্যাপ্ত ফুটবলার না কেনা ও গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে সঠিক বিনিয়োগ না করাকেই ক্লাবের বর্তমান দুর্দশার মূল ‘আয়না’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এই বিশ্বজয়ী ডিফেন্ডার।
ম্যাচ শেষে ব্রডকাস্টার ‘অ্যামাজন প্রাইম’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের রাগ সংবরণ করতে না পেরে লিসান্দ্রো ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘সত্যিই খুব বাজে, ভীষণ বাজে পারফরম্যান্স। আমাকে অনেক নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে, কিন্তু মাঝে মাঝে এগুলোই এই মুহূর্তে আমাদের ক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতির আসল আয়না বা প্রতিফলন। আমি শতভাগ আরও বেশি বিনিয়োগ আশা করেছিলাম। টেকনিক্যাল ডিরেক্টর জেসন উইলকক্সের কাছ থেকেও আরও ভালো পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিলাম। খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের আরও করা উচিত ঠিকই, কিন্তু এমন বড় রাতের মুখোমুখি হতে একটি শক্তিশালী দল গঠন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’
সব দায় কোচের ওপর চাপানো এবং বারবার ম্যানেজার বদলানোর ঐতিহ্য নিয়েও বোর্ডের সমালোচনা করেন লিসান্দ্রো। এ নিয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনি তো বারবার শুধু ম্যানেজার বদলাতেই থাকতে পারেন না! অন্যান্য বিভাগগুলোর কী খবর? প্রতি মৌসুমে দলগুলো আপনার কৌশল জেনে যায়। আপনি যদি পরের মৌসুমে পরিবর্তন না আনেন, তবে সেটা বড় সমস্যা। আজ রাতে কোচ বা খেলোয়াড়দের দোষ দেওয়া খুব সহজ, কিন্তু আমাদের ওপরের অন্যান্য জায়গাগুলোও দেখা উচিত।’
লিসান্দ্রোর এই বিস্ফোরক বক্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। ইউনাইটেডের সাবেক অধিনায়ক ওয়েন রুনি ও অ্যাশলি ইয়ং এই মন্তব্যকে ‘অপরিণামদর্শী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ব্রডকাস্টিং অনুষ্ঠানে ওয়েন রুনি বলেন, ‘এমন মন্তব্য ড্রেসিংরুমকে টুকরো টুকরো করে দেবে। এটি সতীর্থদের প্রতি অসম্মানজনক। সে বোঝাতে চেয়েছে সতীর্থরা যথেষ্ট যোগ্য নয়। নিজের পিঠ বাঁচাতে সে মিডিয়ায় এভাবে আগে থেকে ভেবেচিন্তে সাক্ষাৎকার দিয়েছে।’
অন্যদিকে লিসান্দ্রোর এই সরাসরি অবস্থান নিয়ে ড্রেসিংরুম উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও সংবাদ সম্মেলনে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ইউনাইটেড ম্যানেজার মাইকেল ক্যারিক। পোস্ট-ম্যাচ কনফারেন্সে ক্যারিক সরাসরি জানান, ‘আমি সাক্ষাৎকারটি দেখিনি, শুধু হালকা শুনেছি। ম্যাচের হারের আবেগের বশে এমনটা হতে পারে। কী ঘটেছে এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া দরকার কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাকে আরও বিস্তারিত জানতে হবে। তবে এই মুহূর্তে ক্লাবের সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’
আতলেতিকোর মাঠে বল দখল, পারফর্ম, ফিনিশিং কোনো কিছুতেই এগিয়ে ছিল না রেড ডেভিলরা। ম্যাচ শুরুর ৪৭ সেকেন্ডের মাথাতেই গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন পাবলো বারিওস। এরপর দীর্ঘ সময় এক গোলের ব্যবধান ধরে রাখার পর শেষ দিকে লেনি ইয়োরো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের ইউনাইটেডের বিপক্ষে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পায় আলভারেজরা। সেখানেই বদলি হিসেবে নামা আদেমোলা লুকম্যানের গোলে ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে ডিয়েগো সিমিওনের দল। এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের আসরে এটিই আতলেতিকোর প্রথম জয়।
বায়ার্নকে রুখে দিল ভাইকিং, বড় জয় আর্সেনালের