গোল পাননি, তবে ইস্তাম্বুলের রামস পার্কের সবুজ গালিচায় পায়ের জাদুতে যা দেখালেন তা নিয়েই এখন ফুটবল বিশ্বে তোলপাড়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গালাতাসারাইকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার রাতে বার্সেলোনার ১৯ বছর বয়সী তারকা লামিন ইয়ামালের এক 'অলমোস্ট রাবোনা' অ্যাসিস্টে মুগ্ধ ফুটবল সমর্থকেরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে একক আধিপত্য দেখায় হান্স ফ্লিকের শিষ্যরা। ফিরমিন লোপেজের গোলের সুযোগ তৈরি করার পর অ্যান্থনি গর্ডনের গোলেও বল বাড়ান ইয়ামাল। বিশেষ করে গর্ডনের গোলটির নেপথ্যে থাকা ইয়ামালের পায়ের কারিকুরিই ছিল পুরো ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত।
ডি-বক্সের ভেতর বাইলাইনের কাছে ডিফেন্ডারকে বোকা বানাতে এক অভিনব কৌশল নেন ইয়ামাল। ডান পায়ে 'রাবোনা' শটের ভান করে বলের পথ বদলে বাঁ পায়ে নিয়ন্ত্রণে নেন তিনি। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে মাটিতে ফেলে ক্ষিপ্র গতিতে বক্সে ঢুকে একদম মাপা শটে খুঁজে নেন গর্ডনকে। সেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি এই ইংলিশ উইঙ্গার।
ম্যাচ শেষে মুভটির একটি রিপ্লে দেখার সময় মুচকি হেসে স্প্যানিশ টিভি চ্যানেল মোভিস্টার-কে ইয়ামাল বলেন, 'এটিকে কী নাম দেব বুঝতে পারছি না, বলা যায় একরকম ‘অলমোস্ট রাবোনা’ (প্রায় রাবোনা) ড্রিবলিং। মূল ব্যাপার হলো—কৌশলটি চমৎকার কাজ করেছে এবং গর্ডন সেখান থেকে গোল করতে পেরেছে। দিনশেষে এটা কাজের প্রমাণিত হয়েছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।'
পরবর্তীতে সিবিএস স্পোর্টসে বার্সেলোনার সাবেক কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড থিয়েরি অঁরির মুখোমুখি হয়ে এই ১৯ বছর বয়সী বিস্ময় বালক নিজের ট্রিকের পিছনের আসল রহস্য প্রকাশ করেন, 'ইদানীং আমি খেয়াল করেছি, যখনই আমি গোল লাইনের কাছাকাছি পৌঁছাই, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা আমাকে আটকাতে মাটিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে (ট্যাকল করতে)। আমি সেখানে একটা সুযোগ দেখি এবং ভাবি এটা দারুণ কাজে দিতে পারে। এটি সফল হয়েছে এবং আমি খুব খুশি। আমি সবসময়ই জায়গা তৈরি করার জন্য এমন ডামি বা ফেক মুভ নেওয়ার চেষ্টা করি।'
চলতি মৌসুমে বার্সার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম্যাচে ইয়ামালের গোল সংখ্যা দাঁড়াল ৮টিতে, আর সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৯টি গোল। ডাবল ডিজিটের এই অলরাউন্ড নৈপুণ্যে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত কোচ হান্স ফ্লিক।