দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল অফিস: ইউজিসি সদস্য ড. মামুন

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

দেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে চলতি বছর দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল অফিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ইন্টারন্যাশনাল অফিস প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ ডিগ্রি, বৃত্তি এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) তিনটি আধুনিক ডিজিটাল সেবা—মাইবাউবি মোবাইল অ্যাপ, ই-অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম এবং কমপ্লেইন্ট/সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের উচ্চশিক্ষাকে আরও আন্তর্জাতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক সক্ষমতা বাড়বে এবং বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণ, যৌথ গবেষণা ও বৈশ্বিক জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়াসহ বৃহত্তর অঞ্চলের একটি আকর্ষণীয় উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।

ইউজিসি সদস্য জানান, বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির আবেদনপ্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার ‘স্টাডি বাংলাদেশ’ নামে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টাল চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়কে এ পোর্টালের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে ইউজিসির হিট প্রকল্পের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে ইন্টারন্যাশনাল অফিস থাকলেও চলতি বছর সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ অফিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ ধরনের অফিস প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত ‘স্টাডি বাংলাদেশ’ পোর্টালের মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন এবং অনলাইনে ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। এতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচিতি বাড়বে এবং বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।

অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ইন্টারন্যাশনাল অফিসগুলোর মাধ্যমে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতা, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ সৃষ্টি, যৌথ ডিগ্রি কার্যক্রম এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়সহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষক, গবেষক ও পেশাজীবীদের দেশের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার সুযোগও তৈরি হবে।

এ সময় ‘ব্রেইন সার্কুলেশন’ ধারণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে দেশের শিক্ষা ও গবেষণায় কাজে লাগানোর কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এতে গবেষণার মানোন্নয়ন, নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল সেবা চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এসব সেবা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা এবং অভিযোগ ও সেবা ব্যবস্থাপনায় কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। উচ্চশিক্ষায় ডিজিটাল রূপান্তর ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে এবং শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান, প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত