ফুটপাতে মারধরের ঘটনায় খালিদ হাসানের ১৫ দিনের কারাদণ্ড

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ এএম

রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক ব্যক্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় খালিদ হাসান নামে এক যুবককে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে ধানমন্ডির মীনাবাজার এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে এ সাজা দেন।

আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমরান আহমেদ জানান, গত সোমবার ধানমন্ডি সাতমসজিদ সড়কে বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীতে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানাকে (৪৮) মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানোর কথা স্বীকার করেছেন খালিদ। এরপর তাঁকে ১৫ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এর আগে, গত সোমবার এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শহীদ আবদুল্লাহকে মারধর করেন খালিদ। একপর্যায়ে ধানমন্ডি থানা-পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান।

ঘটনাস্থলে শহীদ আবদুল্লাহকে চড়থাপ্পড় মারা এবং কান ধরে ওঠবস করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে ঘটনাস্থলে দুই পুলিশ সদস্যকে উপস্থিত থাকলেও নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এ ঘটনায় বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডির মীনাবাজার এলাকা থেকে খালিদ হাসানকে আটক করা হয়। একই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাইকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খালিদ হাসান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত। তাঁর ভাগনিকে শ্লীলতাহানি করা হয়েছে—এমন অভিযোগে তিনি শহীদ আবদুল্লাহর ওপর চড়াও হন।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব এর আগে জানিয়েছিলেন, শহীদ আবদুল্লাহ মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকেন। তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, এমবিবিএস পড়ার সময় তিনি মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হন। পরে বিয়ে হলেও তাঁর সংসার টেকেনি।

অন্যদিকে, অভিযোগকারী তরুণীর ভাষ্য, শহীদ আবদুল্লাহ তাঁকে ‘ব্যাড টাচ’ বা আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আটক করতে আগ্রহ দেখাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ফোন করে মামাকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। ভাগনিকে রক্ষা করতে এসে খালিদ ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন বলে জানান তরুণী।

খালিদ হাসানের সাজা হওয়ার পর বুধবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই তরুণী বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট মামাকে ১৫ দিনের জেল দিয়ে দিছে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে কান্নাকাটি করে বলেছিলাম, আমাকে নিয়ে যান, আমার মামাকে ছেড়ে দেন। আমাকে রক্ষা করতেই তো তিনি এসেছেন। আমার জন্যই তো তিনি ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট আমার কথা শুনলেন না।’

তরুণী আরও প্রশ্ন তোলেন, তাঁকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের সময় পুলিশ সদস্যরা নীরব থাকলেও তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে রক্ষা করতে এসে এখন তাঁর স্বজনকেই কারাগারে যেতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি ইমদাদুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এএসআই আবদুল হাইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে তাঁর দায়িত্ব ছিল। তবে সেখানে উপস্থিত অন্য দুই পুলিশ সদস্য পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (দাঙ্গা দমন বিভাগ) সদস্য হওয়ায় তাঁদের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত