বাংলাদেশের নিজস্ব পরিকল্পনা ও সংস্কার কৌশলের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ প্রধান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। খবর বাসস-এর।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে তিনি বলেন, এবারই প্রথম আন্তর্জাতিক সহযোগীরা বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে মেনে নিয়েছে। ফলে দেশের নিজস্ব রোডম্যাপ অনুযায়ী অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আইএমএফের ঋণ সহায়তায় শর্তের প্রভাব সম্পর্কিত প্রশ্নে উপদেষ্টা জানান, নির্ধারিত প্রক্রিয়াসমূহ অনুসরণ করেই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আইএমএফের পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশ উল্লেখ করা হলেও সরকার বাজেটের ৬.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আশাবাদী। অতীতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইএমএফের প্রাক্কলন কিছুটা রক্ষণশীল হয়ে থাকে।
অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও অতীতের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া সরকারের প্রধান লক্ষ্য। অতীতে সামাজিক সুরক্ষা তালিকার ত্রুটি ও অনিয়ম দূর করতে এবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। সামাজিক খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের পরিকল্পনাকেও বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইতিবাচকভাবে দেখছে।
আর্থিক খাতের শৃঙ্খলার বিষয়ে ড. তিতুমীর জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংক খাত থেকে বিগত সময়ে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার লুটপাটের বড় মাশুল সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে। ব্যাংক খাতের এসব অনিয়ম ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সহযোগীদের দেশে বা বিদেশে যেখানেই থাকুক, কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
১২ থেকে ১৮ অক্টোবর ব্যাংককে বহুপাক্ষিক এই বৈশ্বিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।