কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুনে ৬ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ভেতরের পোড়া অংশে কাজ পরিচালনা করায় হতাহতের সুনির্দিষ্ট চূড়ান্ত সংখ্যা এখনো নিরূপণ করা হচ্ছে।

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
কক্সবাজারের ইনানীতে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন একটি পর্যটন রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। উদ্ধার করা নিহতদের সকলেই পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডে রিসোর্টটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত 'টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্ট'-এ অগ্নিকাণ্ডের এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন লাগার সময় রিসোর্টটিতে প্রায় ৩০ জনের মতো পর্যটক ও কর্মচারী অবস্থান করছিলেন। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে চার থেকে পাঁচজন তড়িঘড়ি করে বাইরে বের হতে সক্ষম হলেও, অনেকেই অগ্নিকুণ্ডে আটকে পড়েন। বাকিদের অবস্থান ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে এখনো গভীর সংশয় ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়ে রয়েছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল ৮টা থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে ও আটকে পড়াদের উদ্ধারে সমন্বিত কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে বেলা ১১টার দিকে আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ নিশ্চিত করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস কক্সবাজার স্টেশনের ইনচার্জ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য। তিনি জানান, ‘ঘটনাস্থল থেকে এ পর্যন্ত ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা সবাই পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। তবে উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।’
 
আগুন লাগার প্রাথমিক কারণ, নিহতদের সুনির্দিষ্ট নাম-পরিচয় কিংবা মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে এই দুর্ঘটনার পর থেকে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের কাউকেই ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই রিসোর্ট মালিক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম মজুমদার জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ভেতরের পোড়া অংশে কাজ পরিচালনা করায় হতাহতের সুনির্দিষ্ট চূড়ান্ত সংখ্যা এখনো নিরূপণ করা হচ্ছে।
 
পাশাপাশি গাফেলতি বা অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে পালিয়ে যাওয়া রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ। বর্তমানে দুর্ঘটনাকবলিত স্থানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত