নতুন পে স্কেলে বকেয়া বেতন হিসেব করবেন যেভাবে

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বকেয়া বেতন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী কত টাকা বকেয়া পাওয়া যেতে পারে, তা জানতে চাইছেন অনেকে। 

এ হিসাব সহজে বের করতে তৈরি করা হয়েছে একটি এইচটিএমএলভিত্তিক বেতন ক্যালকুলেটর। এতে কর্মচারীর গ্রেড, পুরোনো মূল বেতন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে নতুন মূল বেতন, বাড়ি ভাড়া ও বিশেষ সুবিধার সমন্বয়সহ মাসভিত্তিক বকেয়ার হিসাব পাওয়া যাবে।

ক্যালকুলেটরটি কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের যেকোনো ব্রাউজারে খোলা যাবে। এটি ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন নেই। তবে হিসাবের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে তথ্যগুলো সঠিকভাবে দিতে হবে এবং ক্যালকুলেটরের নির্ধারিত বেতন স্কেল ও অন্যান্য হার যাচাই করে নিতে হবে।

বকেয়া বেতন হিসেব করতে প্রথমে ক্যালকুলেটরের ব্যক্তিগত তথ্যের অংশে কর্মচারীর নাম, পদবি এবং অফিস বা প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে। এসব তথ্য পরবর্তী সময়ে প্রিন্ট করা বকেয়া বেতনের বিবরণীর উপরে দেখা যাবে। তবে ব্যক্তিগত তথ্যের ঘরগুলো ফাঁকা রাখলেও বেতন হিসাব করা যাবে।

নতুন পে-স্কেলে বকেয়া বেতন হিসেব করতে এখানে ক্লিক করুন

এরপর বেতনসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী যে গ্রেডে কর্মচারী ছিলেন, সেটি নির্বাচন করতে হবে। একই তারিখে তাঁর মূল বেতন কত ছিল, তা পে-স্লিপ দেখে নির্ধারণ করতে হবে। তালিকায় নিজের মূল বেতনের অঙ্ক না থাকলে ‘অন্য অঙ্ক লিখব’ অপশন নির্বাচন করে তা লিখতে হবে।

এ ছাড়া ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে পুরোনো বেতন স্কেলে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ যে মূল বেতন গ্রহণ করা হয়েছে, সেটিও ক্যালকুলেটরে দিতে হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে নতুন স্কেলে প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে ইতিমধ্যে গ্রহণ করা বেতনের পার্থক্য নির্ণয় করা হবে।

বাড়ি ভাড়ার হিসাবের জন্য কর্মচারীর কর্মস্থল নির্বাচন করতে হবে। কর্মস্থল অনুযায়ী বাড়ি ভাড়ার হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হলেও পে-স্লিপে উল্লেখ করা প্রকৃত হারের সঙ্গে তা মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে ক্যালকুলেটরের হার পরিবর্তন করা যাবে।

বকেয়া হিসাবের মাসের সংখ্যা সাধারণত তিন মাস নির্ধারণ করা থাকবে। অর্থাৎ জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া হিসাব পাওয়া যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় নির্বাচন করা যাবে। পাশাপাশি ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির বয়স ছয় মাস পূর্ণ না হলে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির ঘরে থাকা টিকচিহ্ন তুলে দিতে হবে।

ক্যালকুলেটরে কিছু ঐচ্ছিক ঘরও রয়েছে। পে-স্লিপে উল্লেখ করা বাড়ি ভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ক্যালকুলেটরের হিসাবের সঙ্গে না মিললে প্রকৃত অঙ্ক সেখানে বসানো যাবে। একইভাবে আইবাস++ বা সরকারি গেজেট থেকে নতুন মূল বেতনের অঙ্ক জানা থাকলে সেটিও নির্দিষ্ট ঘরে দেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর ব্যবহারকারীর দেওয়া নতুন মূল বেতনের অঙ্ককে হিসাবের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে।

প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করার পর ক্যালকুলেটরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেতন বিবরণী তৈরি হবে। এতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের ধাপগুলো এবং প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতনের হিসাব দেখানো হবে। ক্যালকুলেটরের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর ক্ষেত্রে মূল বেতনের বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মাসিক হিসাবের অংশে নতুন স্কেলে প্রাপ্য মূল বেতন ও পুরোনো স্কেলে ইতিমধ্যে গ্রহণ করা মূল বেতনের পার্থক্য দেখানো হবে। পাশাপাশি ৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রাপ্য বাড়ি ভাড়া এবং গৃহীত মূল বেতনের ভিত্তিতে তোলা বাড়ি ভাড়ার সমন্বয় করা হবে। এর সঙ্গে বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধার ১০ বা ১৫ শতাংশের হিসাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এভাবে প্রতিটি মাসের বকেয়া আলাদাভাবে নির্ণয় করে সর্বমোট বকেয়ার পরিমাণ দেখাবে ক্যালকুলেটর। কোনো হিসাব ঋণাত্মক হলে তা লাল রঙে চিহ্নিত থাকবে। ফলে কোন খাতে সমন্বয়ের কারণে বকেয়ার অঙ্ক কমেছে, তা সহজে বোঝা যাবে।

বেতন বিবরণী তৈরি হয়ে গেলে ‘বিবরণী প্রিন্ট করুন’ বোতামে ক্লিক করে তা ছাপানো যাবে। এ ক্ষেত্রে স্বাক্ষরের ঘরসহ এ৪ আকারের একটি বিবরণী পাওয়া যাবে, যা ব্যক্তিগত হিসাব সংরক্ষণ বা প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে নতুন পে স্কেলের বেতন নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। ক্যালকুলেটরটির প্রস্তুতকারকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন স্কেলের সব গ্রেডের বেতন ধাপ এখনো নিশ্চিতভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই হিসাব করার আগে ক্যালকুলেটরের ‘স্কেল টেবিল’ অংশে দেওয়া অঙ্কগুলো এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬-এর সরকারি গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে বাড়ি ভাড়ার হার এবং বিশেষ সুবিধার প্রকৃত অঙ্কও পে-স্লিপের সঙ্গে যাচাই করতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত