চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) বিদ্যমান অচল অবস্থা নিরসন এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালুর লক্ষ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত ও পরামর্শক কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য পর্যায়ে এই কমিটি গঠন করে দ্রুত সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা পাঠাতে বলা হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিটি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চুয়েটের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অচলাবস্থা নিরসন এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পুনরারম্ভ করার নিমিত্ত বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য পর্যায়ে তদন্ত/পরামর্শক কমিটি গঠন করে উল্লিখিত বিষয়ে তদন্তপূর্বক সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা জরুরিভিত্তিতে এ বিভাগে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নতুন উপাচার্য নিয়োগের খবর আসার পর রাতেই শিক্ষার্থীরা সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে যোগ দিয়ে টানা কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
টানা আন্দোলনের মুখে ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইন যোগদান করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তবে আন্দোলন চলতে থাকায় তিনি ১৮ দিন পর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে ৩০ ঘণ্টা নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তিনি অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তি পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে সার্কিট হাউজে ফিরেই শুক্রবার সন্ধ্যায় অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা করেন উপাচার্য। সভায় তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।