বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা: সর্বোচ্চ আদালতে আপিলের শুনানি ৮ ডিসেম্বর

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে বিশ্বজিৎ দাসকে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আক্রমণকারীরা সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন) নেতাকর্মী ছিলেন। 

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

প্রায় ১৪ বছর আগে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি শুরু হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর। 

আপিল বিভাগে শুনানির বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এদিন ধার্য করেন।

বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন এটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। 

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে বিশ্বজিৎ দাসকে বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আক্রমণকারীরা সবাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন) নেতাকর্মী ছিলেন। 

এ হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এক রায়ে ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।

২০১৭ সালের ৬ আগস্ট মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) এবং যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের আপিলের ওপর শুনানি শেষে 
রায় দেন হাইকোর্ট। 

হাইকোর্টের রায়ে অধস্তন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আট আসামির মধ্যে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন এবং অপর দুই আসামিকে খালাস দেয়া হয়। এ ছাড়া অধস্তন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে যে দু’জন আপিল করেন তারা হাইকোর্টে খালাস পান।

হাইকোর্ট যে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে তারা হলেন- রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদার। 

মৃত্যুদণ্ড থেকে হাইকোর্টের রায়ে খালাস পেয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিঞা টিপু।

এ ছাড়া হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জি এম রাশেদুজ্জামান শাওন ও মীর মো. নূরে আলম লিমনকে।

অধস্তন আদালতের দেয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে খালাস পান এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফা। অন্যদিকে হাইকোর্টের রায়ে যে ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয় তারা হলেন- খন্দকার ইউনুস আলী, তারেক বিন জোহর, আলাউদ্দিন, ওবায়দুল কাদের, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল আমিন শেখ, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, কামরুল হাসান ও মোশাররফ হোসেন।

এটর্নি জেনারেল আজ সাংবাদিকদের বলেন, সাইফুল ইসলাম ও কাইয়ুম মিয়া টিপুকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত