২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা এসেছে এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতপ্রকাশ এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ বেড়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ও ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী পরিবর্তন নিয়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিম (সিপিআইটি) এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। গত ৭ থেকে ১৫ জুন বাংলাদেশে পরিচালিত ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, সাংবাদিক ও গবেষকদের সঙ্গে আলোচনার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনের সামারিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামগ্রিক উন্নতি হয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশও আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় শান্তিপূর্ণ ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
নির্বাচনের পর কমেছে রাজনৈতিক সহিংসতা
প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল এবং আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। স্থানীয় প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পদ এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটছে বলে প্রতিবেদনে বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড ও মতপ্রকাশের সুযোগ বেড়েছে
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দল সরকারবিরোধী সমালোচনা, প্রচার-প্রচারণা, সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছে।
বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের সময়ের তুলনায় রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং মতপ্রকাশের সুযোগ বেড়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও জনআলোচনায় অংশ নেওয়া এবং নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা পাচ্ছে।
২১ হাজারের বেশি মামলা প্রত্যাহারের তথ্য
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিবেচিত মামলাগুলোর পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের বিষয়টিও প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছেন এবং অধিকাংশ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২১ হাজারের বেশি রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ঐতিহাসিক মামলাগুলোর পর্যালোচনা এখনো চলমান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশি কার্যক্রম
বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তারা ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনকে জানিয়েছেন, সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। বড় ধর্মীয় উৎসবের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টিও তাঁরা তুলে ধরেছেন।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম, জবাবদিহিতা ও সংস্কারের বিষয়গুলোও প্রতিবেদনে পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগের সময়ের তুলনায় বর্তমানে সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশ এবং জনআলোচনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের এই প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, ২০২৬ সালের নির্বাচন, রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাস এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার পর্যালোচনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।