‘ইশরাকের উদ্যোগ ভালো, অস্ত্র নেওয়া ঠিক হয়নি’: স্পিকার

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের সংশোধন করতে হবে। ইতোমধ্যে ঢাকায় একজন নারী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হাসপাতাল দখলের অভিযোগ উঠেছে এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। একইভাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও পদত্যাগ করেছেন।

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

দুর্বৃত্ত দমনে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের উদ্যোগের প্রশংসা করলেও তার হাতে অস্ত্র নেওয়ার সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আইনি বা বেআইনি—কোনো অবস্থাতেই একজন মন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তির হাতে অস্ত্র নেওয়া শোভা পায় না।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা বিএনপি, পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যৌথ আয়োজনে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, ‘পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণকারী একদল মাদকসেবীকে দমন করতে গিয়েছিলেন ইশরাক হোসেন। তার উদ্যোগ ভালো হলেও হাতে অস্ত্র নেওয়া ঠিক হয়নি। ইশরাকের সঙ্গে দেহরক্ষী রয়েছেন। পুলিশ বাহিনী দুর্বল হলে দলীয় কর্মীরাও সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে পারেন। তবে কোনো নেতা বা মন্ত্রীর নিজের হাতে অস্ত্র নেওয়া মানানসই নয়।’

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে দুর্বৃত্ত দমনে ইশরাকের ভূমিকার জন্য সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতে তাকে মূল্যায়ন করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের সংশোধন করতে হবে। ইতোমধ্যে ঢাকায় একজন নারী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হাসপাতাল দখলের অভিযোগ উঠেছে এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। একইভাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও পদত্যাগ করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি বলেও মন্তব্য করেন স্পিকার।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানে রয়েছেন। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়ে এর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের শাসনের পর জনগণ একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। এ সরকার যাতে জনকল্যাণে কাজ করতে পারে, সে জন্য সবাইকে সরকার ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।

সংসদ পরিচালনায় নিজের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, তিনি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করছেন। বিরোধী দলের সদস্যরাও এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেননি। সরকারি দল ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই কথা বলার সমান সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সমালোচনা করার কারণে কারও কণ্ঠ রোধের চেষ্টা করেননি বলেও জানান তিনি।

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিফাত বিন সাদিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত