সব ঠিক থাকলে গতকাল শারজায় থাকার কথা ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর। কিন্তু সবকিছু ঠিক থাকল কোথায়? ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে যখন আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে লড়াইয়ে নামে, তার আগে এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দেখা গেল বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ককে। হারের হতাশা নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে আগের দিন দেশে ফিরে আসেন তিনিও। তবে সময়টা আর নষ্ট করেননি শান্ত। বিসিবি একাদশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং দেখতে হাজির হন বসুন্ধরায়। তাতে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে আগামী ২৮ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য পরিকল্পনা সাজাতে সুবিধা হবে তার। সেখানে গিয়ে সফরকারীদের ব্যাটিং দেখে নিশ্চয়ই একটা উপলব্ধি হয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়কের। দেখেছেন, স্পিনের বিরুদ্ধে কতটা কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন উইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এক লেগ স্পিনার পরিচিতির সীমা ভেঙে একাই ৪ উইকেট নেন।
এ প্রস্তুতি ম্যাচে আগে ব্যাট করে বিসিবি একাদশ ৭ উইকেটে ৩৭১ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৩৬ রান করে। শুরুতে অবশ্য ভালো অবস্থানেই ছিলেন সফরকারীরা। উদ্বোধনী জুটিতে জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং যোগ করেন ৮৩ রান। কিং ৩৫ বলে ৪০ রান করে অনিক দেব বর্মার বলে লেগ বিফোর হন। ক্যাম্পবেল ৭৮ বলে ৬৫ রান করে স্বেচ্ছায় অবসরে যান। তেজনারায়ণ চন্দরপল করেন ৩১ রান। এরপরই হোসাইনের ঘূর্ণিতে চাপে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং। প্রথমে কাভিম হজকে মিডঅনে শামীম হোসেন পাটোয়ারীর দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার বানান তিনি। এরপর নিজের বলে ফিরতি ক্যাচ নিয়ে ফেরান জশুয়া ডি সিলভাকে। পরে আমির জাঙ্গুকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন হোসাইন। ৬৮ বলে ৪৪ রান করেন জাঙ্গু। একই ওভারে জশুয়া বিশপকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন এ লেগ স্পিনার।
আফগানিস্তানের রশিদ খানকে আদর্শ মানা হোসাইন নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বলেন, ‘লেগ স্পিনারদের পারফর্ম করতে পারলে বা ভালো বোলিং করতে পারলে অবশ্যই সুযোগ থাকে। এমন একটা দলের বিপক্ষে খেললে কিছুটা আত্মবিশ্বাস বাড়ে। এখন এনসিএল চলছে। যখন যেখানে সুযোগ পাব, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’