কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি শ্রমিকদের দাবির আড়ালে সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নেড়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, কোনো শ্রমজীবী মানুষ কিংবা শ্রমিক ভাই-বোনেরা কখনো শিল্পকারখানার ক্ষতি করতে পারেন না। কিন্তু একটি মহল বিভিন্ন কলকারখানায় গিয়ে যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করছে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত এক পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাগেরহাটে এই নিয়ে দুবার এসেছি। কেন এসেছিলাম এই বাগেরহাটে? নির্বাচনের আগে দেশের মানুষকে বলেছিলাম, বিএনপি যদি সরকার গঠনে সফল হয়, তাহলে দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে। যে মিলকলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, সেগুলো আমরা চালু করব। শুধু চালুই করব না, যারা মিলকলকারখানা করতে চায়, তাদের এই খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী করব। আমরা চাই দেশে হাজার হাজার শিল্প স্থাপন করতে। দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলসহ যেসব এলাকা অবহেলিত আছে, সেসব অঞ্চল উন্নত করতে চাই। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই, এসব অঞ্চল আর অবহেলিত হিসেবে ফেলে রাখতে চাই না।’
সরকারের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার রাতদিন পরিশ্রম করছে, কীভাবে দেশের সমস্যার সমাধান করা যায়, কীভাবে দেশে শিল্পের প্রসার ঘটানো যায়, কীভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো যায়, যাতে দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারে। শ্রমিকদের জন্য একটি মজুরিবোর্ড গঠন করেছি। ইতিমধ্যে তারা কাজ শুরু করে দিয়েছে। আগামী দুয়েক মাসের মধ্যে মজুরিবোর্ড নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করবে, তাতে শ্রমিক ভাইবোনেরা ভালো থাকতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু আপনারা দেখেছেন, আমরা যখন দেশে কর্মসংস্থানসহ শিল্পের প্রসার ঘটাতে চাচ্ছি, তখন দেশের বাইরে, সীমান্তের ওপার থেকে শ্রমিকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক ভাইবোনেরা শিল্পের কোনো ক্ষতি করতে পারেন না। কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোক শিল্পকারখানায় যাচ্ছে, তারা তা ধ্বংস করছে। লাখ লাখ মানুষ এখানে কাজ করে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। যারা বিগত দিনে দেশের সম্পদ লুটপাট করে অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে গেছে, তারা এখন সীমান্তের ওপারে বসে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মিলকলকারখানা দেশের সম্পদ, শ্রমিকদের সম্পদ। এই মিলকলকারখানা যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিক ভাইবোনেরা, তাদের পরিবার-স্বজনেরা। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হবে। আমরা যখন দেশে হাজার হাজার শিল্পকারখানা গড়ার পরিকল্পনা করছি, কীভাবে মানুষের কর্মসংস্থান করা যায়, ঠিক সেই সময়ে সীমান্তের ওপার থেকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। আজ সময় এসেছে দেশ গড়ে তোলার, ভাগ্যের পরিবর্তন করার। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে এবং রুখে দাঁড়াতে হবে। এই সরকার জনগণের সরকার, তাই সব ষড়যন্ত্রকারীর বিরুদ্ধে জনগণ ও শ্রমিকদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’
পথসভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। এ সময় বাগেরহাট জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। পরে তিনি খুলনার উদ্দেশে বাগেরহাট ত্যাগ করেন।