টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান
- কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ও রঙ্গিখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানা নির্মূলে দ্বিতীয় দিনের মতো সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী।
- শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্যের একটি দল এই অভিযানে অংশ নেয়।
- কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ও রঙ্গিখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্রের আস্তানা নির্মূলে দ্বিতীয় দিনের মতো সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী।
- শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্যের একটি দল এই অভিযানে অংশ নেয়।
পাহাড়ে মানবপাচারবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান
কুয়াকাটায় লাল কাঁকড়ার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
বালুকাবেলায় রক্তের মতো লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ আর ক্ষিপ্র দৌড়ঝাঁপ—কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের অনন্য রূপের এক অন্যতম প্রাণভোমরা। কিন্তু অবারিত পর্যটন, হইচই আর যানবাহনের চাকায় প্রতিনিয়ত পিষ্ট হচ্ছিল লাল কাঁকড়ার শান্ত নীড়। তবে এবার আশার আলো দেখাচ্ছে এক আন্তর্জাতিক গবেষণা। কুয়াকাটার সৈকতে সামান্য সুরক্ষা আর মানুষের অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণ করতেই ঘটল চমকপ্রদ পরিবর্তন; অসংরক্ষিত অঞ্চলের তুলনায় সুরক্ষিত এলাকায় মিলল প্রায় ১৯ গুণ বেশি কাঁকড়ার গর্ত!
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এই তথ্য প্রমাণ করছে—মানুষের একটু সচেতনতা আর সঠিক সংরক্ষণ পদক্ষেপই পারে কুয়াকাটার এই দৃষ্টিনন্দন জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের হাত থেকে ফিরিয়ে এনে সৈকতকে নতুন প্রাণ দিতে।
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী 'রিজিওনাল স্টাডিজ ইন মেরিন সায়েন্স'-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। "কুয়াকাটার বালুকাময় সৈকতে লাল কাঁকড়ার প্রাচুর্য ও আচরণের ওপর মানুষের বিচরণজনিত প্রভাব হ্রাসে সংরক্ষণ উদ্যোগের ভূমিকা" শীর্ষক এই গবেষণায় কুয়াকাটার লেম্বুরবন, চর গঙ্গামতি ও চর বিজয় এলাকায় কাঁকড়ার গর্তের ঘনত্ব ও বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এতে গবেষকেরা সর্বমোট ৬ হাজার ৫৭৫টি গর্ত নথিভুক্ত করেন।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংরক্ষিত এলাকায় গর্তের ঘনত্ব অসংরক্ষিত অঞ্চলের তুলনায় প্রায় ১৯ গুণ বেশি। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, সৈকতের সংবেদনশীল এলাকায় মানুষের বিচরণ নিয়ন্ত্রণ করে কাঁকড়ার আবাসস্থল সফলভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব। এজন্য বৈজ্ঞানিক জরিপের ভিত্তিতে সংরক্ষণব্যবস্থা গ্রহণ, পর্যটকদের নির্দিষ্ট চলাচলের পথ নির্ধারণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী ও জনগণকে এই সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন গবেষকেরা।
‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সংরক্ষিত এলাকায় কাঁকড়ার গর্তের ঘনত্ব বেশি হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ মানুষের বিচরণ ও অন্যান্য বাহ্যিক বিরক্তি কম থাকা। তিনি জানান, কাঁকড়ার প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় এবং তাদের আবাসস্থলের ক্ষতি এড়ানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি। এ কারণে গবেষণায় গর্তের ঘনত্ব পরিমাপের মাধ্যমে কাঁকড়ার উপস্থিতি ও বিস্তারের তুলনামূলক চিত্র পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। নমুনাভিত্তিকভাবে পুরোনো গর্ত পরীক্ষা করে সক্রিয় নয়, এমন গর্ত হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাজীব সরকার বলেন, লাল কাঁকড়া শুধু কুয়াকাটা সৈকতের সৌন্দর্যের অংশ নয়, মৃত জৈব পদার্থ ও ক্ষুদ্র প্রাণী খাওয়ার মাধ্যমে পুষ্টি উপাদানের পুনঃচক্রায়ন এবং খাদ্যজালের ভারসাম্য রক্ষায়ও অবদান রাখতে পারে।
অধ্যাপক রাজীব সরকার আরও বলেন, কাঁকড়া সংরক্ষণে বিভিন্ন মৌসুমে তাদের উপস্থিতি ও গর্তের ঘনত্বের পরিবর্তন, পর্যটকের চাপ, যানবাহন, বর্জ্য এবং সৈকতের পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। পাশাপাশি কাঁকড়ার প্রজননকাল, ছোট কাঁকড়ার বেঁচে থাকার হার ও দূষণের সম্ভাব্য প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা বলেন, কুয়াকাটায় আসা অধিকাংশ পর্যটকের অন্যতম আকর্ষণ লাল কাঁকড়া। এসব কাঁকড়ার সঙ্গে ছবি তুলতে গিয়ে অনেক পর্যটক অতিরিক্ত উৎসাহী হয়ে পড়েন। এতে কাঁকড়াগুলো আহত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে মারা যায়।
তিনি বলেন, কিছু অটোরিকশাচালকও পর্যটকদের হাতে কাঁকড়া নিয়ে ছবি তোলার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন সৈকতে নিয়ে যান। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কাঁকড়ার জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে লেম্বুরবন, গঙ্গামতি ও চর বিজয়সহ যেসব এলাকায় কাঁকড়ার বিচরণ বেশি, সেখানে সংরক্ষণ, নিয়মিত পাহারা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। পর্যটকদের ভ্রমণের শুরুতেই কাঁকড়ার পরিবেশগত গুরুত্ব বোঝাতে হবে এবং কাঁকড়া ধরে ছবি তোলা থেকে বিরত রাখতে হবে।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-এর সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষণায় সংরক্ষিত সৈকতে কাঁকড়ার গর্তের ঘনত্ব বেশি পাওয়ার তথ্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এমমনিরুজ্জামান বলেন, চর বিজয়, লেম্বুরবন ও গঙ্গামতি এলাকায় বর্তমানে লাল কাঁকড়ার আবাসস্থলের অবস্থা সন্তোষজনক রয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, পটুয়াখালীর নির্দেশনা অনুযায়ী এসব এলাকার কাঁকড়ার আবাসস্থল ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন বিভাগ কাজ করছে।
মনিরুজ্জামান আরও বলেন, লাল কাঁকড়ার আবাসস্থল রক্ষায় এর আগে বেড়া স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সাগরের প্রতিকূল আবহাওয়া, জোয়ার-ভাটা ও ঢেউয়ের কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে কাঁকড়ার বিচরণক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখতে সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি নতুন করে বেড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, সংরক্ষিত সৈকতে লাল কাঁকড়ার গর্তের ঘনত্ব বেশি পাওয়ার তথ্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে। পর্যটকদের সচেতন করা, লাল কাঁকড়া ধরা ও বিরক্ত করা থেকে বিরত রাখা এবং তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান
খাগড়াছড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা বিআরটিসি বাসে আগুন
খাগড়াছড়ি পৌর শহরের মহাজন পাড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিআরটিসি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছার আগে বাসটি পুরোটা পুড়ে যায়। বিআরটিসি টিকেট কাউন্টারের টিকেট বিক্রেতা বিদ্যুৎ চাকমা জানান, তাকে ভোর ৪টার দিকে ফোন দিয়ে জানানো হয় গাড়িতে আগুন লেগেছে। তিনি গিয়ে দেখে গাড়ি পুরোটা পুড়ে গেছে, কে বা কাহারা গাড়িতে আগুন লাগিয়েছে।
খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন কর্মকর্তা মুকুল কুমার নাথ বলেন, ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে খবর পেয়ে তাদের ৩টি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় জেলা বিএনপির নেতা ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আবছার জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ জড়িত থাকতে পারে, আর তাদের সহযোগীতায় মব সৃষ্টি করে অরাজকতা করছে।
আর পুলিশ বলেছে দুর্বৃত্তরা বাসটিতে আগুন দিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
তবে কে বা কারা আগুন দিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ।
টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান
টেকনাফে মানবপাচারবিরোধী অভিযানে গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্যের মৃত্যু
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি, সেনাসদস্য নিহত, উদ্ধার ৫৭ জিম্মি