মরে গেলেও আমরা নির্বাচন বর্জন করব না : কামাল

যেকোনো পরিস্থিতিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে থাকার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, মরে গেলেও আমরা নির্বাচন বর্জন করব না। আমার লাশ নিয়ে কর্মীরা ভোট দিতে যাবে। আমি মরে গেলেও আমার আঙুল তো থাকবে। আঙুল ভোট দেবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এর আগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ইসির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন।

ড. কামাল বলেন, ইলেকশন হতে হবে। তারা (আওয়ামী লীগ) মনে করতে পারে, এসব জঘন্য ধরনের আক্রমণ করলে আবেগে আমরা নির্বাচন করব না। এটা আমরা করব না। আমার লাশও করবে না। তিনি বলেন, আমরা তাদের (ইসি) তথ্য দিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে বললামÑপুরো দেশে উত্তর-দক্ষিণ সব জায়গা থেকে অভিযোগগুলো পেয়েছি। পেশিশক্তি নিয়ে প্রার্থীদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। যারা নির্বাচনের কাজে নেমেছে তাদের ওপরই আক্রমণ হচ্ছে। কেউ পোস্টার লাগাতে পারছেন না। বক্তব্য রাখতে পারছেন না। বিভিন্ন জায়গায় একটা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হচ্ছে। যারা নির্বাচন করার জন্য এগিয়ে এসেছেন তাদের নিরুৎসাহিত করার জন্য এসব করা হচ্ছে। এটা খুব ভয়াবহ।

আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ড. কামাল বলেন, আমার তো ৫৫ বছরের অভিজ্ঞতা আছে। বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনী এজেন্ট ছিলাম ’৭০ সালে। তখন থেকে এখন সব নির্বাচনেই ভালোমন্দ দেখেছি। কিন্তু এ অবস্থা কোনো দিন দেখিনি। আমরা লিখিত তালিকা দিয়েছি। বেশকিছু কেসÑযেখানে সময় ও স্থানের ছবি দিয়েছি। গুলিবিদ্ধ ব্যারিস্টার খোকন, রোমানার ছবি দিয়েছি। একজন দুই চোখ হারিয়েছেন, সেই মহিলার ছবি দিয়েছি। আ স ম আবদুর রবের ভাঙা গাড়ির ছবিও আমরা দিয়েছি। এসব ঘটনার কিছু কিছুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিব্রত হয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, বিব্রতবোধ করা যথেষ্ট নয়। কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা তাদের বলেছি, এখনই আপনারা ইনকোয়ারি চান, এক দিনের মধ্যে রিপোর্ট নেন, পদক্ষেপ নেনÑযাতে বুঝতে পারি, নির্বাচন কমিশন দেশকে মুক্ত করতে চায়, যাতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যূনতম পরিবেশ আমরা পাই।

এক দলের পোস্টার ছাড়া অন্য কোনো দলের পোস্টার দেখা যায় না অভিযোগ করে ড. কামাল বলেন, এটা আমি জীবনে দেখিনি। শুধু এক দলের পোস্টার থাকে, অন্য দল মাঠে নামতে পারে না। আমি যতদিন বেঁচে থাকি এ কথাগুলো বলে যাব। আপনাদের সামনে বলব, মানুষের সামনে বলব। প্রতিকার দাবি করব। মানুষের ভোটাধিকারের ক্ষমতার কথা বলব। লাখো লাখো শহীদ যেই ক্ষমতা দিয়ে গেছেন, সেটা থেকে যেন জনগণ বঞ্চিত না হয়। এখন যে প্রক্রিয়া চলছে তাতে বঞ্চিত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত। এটি দ্রুত বন্ধ করতে হবে। ইসি সেই ক্ষমতা রাখে।

৩০ তারিখের ভোটের পর ইনকোয়ারির কোনো অর্থ থাকবে না মন্তব্য করে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল বলেন, এক দিনের মধ্যে রিপোর্ট চেয়ে পরশুর মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া উচিতÑ সেটা আমরা মনে করি। সংবিধান অনুযায়ী ইসির ক্ষমতা আছে। কিন্তু তারা প্রয়োগ করছেন না। সেনাবাহিনী মোতায়েন সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আ স ম আবদুর রব বলেন, আজ থেকেই আমরা সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলেছি।

বৈঠকে সিইসি কেএম নূরুল হুদাসহ অন্যান্য কমিশনার ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে আরো ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, নজরুল ইসলাম খান, ড. মঈন খান, মোস্তফা মহসিন মন্টু, জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।