সাবমেরিন ক্যাবল লাইন ভাঙনের মুখে

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ চ্যানেলের তীব্র স্রোত ও ভাঙনের কারণে সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া প্রান্তে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট বহনকারী ৩৩ হাজার ভোল্টের দুটি সাবমেরিন ক্যাবল উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। উপরিভাগের মাটি সরে যাওয়ায় ক্যাবল দুটি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে, ফলে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সাগরের ১৮ থেকে ৩০ ফুট গভীরে স্থাপন করা হয় দুটি সাবমেরিন ক্যাবল। প্রতিটি ক্যাবলে তিনটি পাওয়ার কোর ও একটি অপটিক্যাল ফাইবার রয়েছে। এসব ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া সীমান্ত দিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ল্যান্ডিং স্টেশনে পৌঁছায়।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দুটি ক্যাবলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে একটি ক্যাবলের মাধ্যমে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ৫০ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে সন্দ্বীপের প্রায় ৫৩ হাজার গ্রাহক জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া আরও প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক এ সুবিধার আওতায় আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। উন্মুক্ত হয়ে পড়া ক্যাবলগুলোর অবস্থান বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে, বিদ্যুৎ বিভাগের ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে। ভাটার সময় ক্যাবলের প্রায় ৪০ ফুট অংশ দৃশ্যমান হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে জেলে ও রাখালরা প্রথম কেবল দুটি উন্মুক্ত অবস্থায় দেখতে পান। সর্বশেষ গত শনিবার এক যুবক ক্যাবলের ওপর দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ১৮ ইঞ্চি ব্যাসের ক্যাবল দুটি প্রায় ১৫ ফুট গভীর মাটির নিচ থেকে বের হয়ে সাগরের দিকে চলে গেছে। বাউরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘গত এক বছরে প্রায় আধা কিলোমিটার সমতল ভূমি ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনের কারণে মাটি সরে গিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল উন্মুক্ত হয়ে গেছে। ভাটার সময় এটি বেশি দেখা যায়। তখন এলাকার ছেলেপুলেরা তারের ওপর উঠে দাঁড়ায়, ভিডিও করে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’

সন্দ্বীপ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফয়সাল বলেন, ‘সাবমেরিন ক্যাবল দৃশ্যমান হয়ে পড়ায় মানুষের কৌতূহল যেমন বেড়েছে, তেমনি ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। কোনো কারণে কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো দ্বীপের বিদ্যুৎ ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চট্টগ্রাম (উত্তর) অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম মৃধা বলেন, ‘সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের সময় আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে ক্যাবল স্থাপনের এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি নেই। কিন্তু প্রাকৃতিক কারণে এখন ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উন্মুক্ত ক্যাবলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে সন্দ্বীপ থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।’

সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগের একটি চিঠির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’

স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ অবকাঠামো রক্ষায় দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ ও ক্যাবলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত