ফোনে আড়িপাতা সংস্থায় নিয়োগে বিধিমালা আসছে

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ফোনে আড়িপাতার ক্ষমতা দিয়ে গঠিত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) নিজস্ব জনবল পেতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে খসড়া বিধিমালা অনুমোদনের জন্য আজ মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে তোলা হবে।

বিশ্বব্যাপী টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উন্নয়নে সৃষ্ট অবাধ তথ্যপ্রবাহের কারণে সংবেদনশীল তথ্যের অযাচিত প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ কার্যক্রমে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ নানাবিধ সম্ভাব্য অপতৎপরতা রোধে ২০১৩ সালে এনটিএমসি গঠন করে সরকার।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ‘ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৮’ নামে খসড়া প্রস্তাবে একজন পরিচালক ও দুজন অতিরিক্ত পরিচালকসহ মোট ৪৪টি পদ রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবে সরাসরি, পদোন্নতির মাধ্যমে ও প্রেষণে বদলির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

খসড়া বিধিমালায়, সরকারি কর্মকমিশনের সুপারিশ ছাড়া এর আওতাভুক্ত কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কমিশনের আওতাবহির্ভূত পদে নিয়োগকারী কর্র্তৃপক্ষের বাছাই কমিটির সুপারিশে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। জাতীয় মজুরি কাঠামোর ২০তম গ্রেডের পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে নিয়োগকারী কর্র্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে বলে প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে শতকরা ৮০ ভাগ হরিজন সম্প্রদায় থেকে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে না পাওয়া গেলে সাধারণ প্রার্থীদের দ্বারা পূরণ করার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের নাগরিক নয় এমন ব্যক্তি, স্থায়ী বাসিন্দা বাংলাদেশের নাগরিক ননÑ এমন ব্যক্তিকে বিবাহ করলে বা বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিলে বা স্বাস্থ্যগতভাবে নিয়োগযোগ্য না হলে এমন প্রার্থীকে এনটিএমসির কোনো পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে অযোগ্য বলা হয়েছে।

এই সংস্থাতে সরকার কর্র্তৃক গঠিত সংশ্লিষ্ট বাছাই/নির্বাচন কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া যাবে বলা হয়েছে। তবে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের কোনো পদ থেকে ১০ থেকে ১২তম পদে এবং ১০ থেকে ১২তম গ্রেডের কোনো পদ থেকে নবম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কোনো পদে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া স্থায়ী শূন্য পদের বিপরীতে কোনো পদে নিয়োগের জন্য বাছাই করা ব্যক্তিকে শিক্ষানবিশ স্তরে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে, স্থায়ী নিয়োগের তারিখ থেকে দুই বছরের জন্য এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে এইরূপ নিয়োগের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য নিয়োগ করা যাবে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ বলা আছে।

তবে শিক্ষানবিশির মেয়াদকালে তার কর্ম ও আচরণ সন্তোষজনক না হলে বা তাহার কর্মদক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে নিয়োগকারী কর্র্তৃপক্ষ মনে করলে, সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশির চাকরির অবসান ঘটাতে পারবেন এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাহাকে যে পদ থেকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল সেই পদে প্রত্যাবর্তন করাতে পারবেন বলা হয়েছে প্রস্তাবে। আর অস্থায়ীভাবে সৃজন করা পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি শিক্ষানবিশ হিসেবে গণ্য হবেন বলেও বিধিমালায় বলা হয়েছে।