একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের তিনটি আসনের প্রার্থীরা অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে প্রচার চালাচ্ছেন। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন মহাজোট মনোনীত আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও মামলার ভয়ে পিছিয়ে আছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত বিএনপির প্রার্থী-সমর্থকরা।
মানিকগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক ক্রিকেটার এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, ২ আসনের কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম ও ৩ আসনের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন ফেইসবুকে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন।
তাদের সমর্থকরা জানান, ফেইসবুকে প্রচার করলে খুব সহজে ভোটারদের কাছে যাওয়া যায়। ভোটাররাও তাদের দাবি খুব সহজে বলতে পারেন।
দুর্জয় তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত নির্বাচনী পোস্ট দিচ্ছেন। তার শতাধিক সমর্থকও নিজস্ব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছেন। দুর্জয়ের সমর্থক এম আকাশ বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত আইডিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার ফলোয়ার ও পৌনে পাঁচ হাজার বন্ধু আছে। আমি একটি পোস্ট দিলে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের কাছে তা চলে যায়। অল্প সময়ের মধ্যে যাদের কাছে যেতে পারি না, তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়।’
মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী রাজু আহম্মেদ বুলবুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের তিন প্রার্থী প্রতিদিন জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফেইসবুকে লাইভ, নির্বাচনী পোস্টার ও জনসংযোগের পোস্ট বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আমরা সবসময় ফেইসবুকে আপডেট থাকি। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবীদের কাছে ফেইসবুকে ভোট প্রার্থনা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।’
নৌকা প্রতীকের মমতাজের ব্যক্তিগত সহকারী মাহমুদুল হাসান জুয়েল বলেন, ‘আমাদের নেত্রী সবসময় ফেসবুকে পোস্ট দেন। কোনো ভোটার প্রশ্ন করলে আমরা উত্তর দিই। ফলে আমরা ভোটারের মনের কথা জানতে পারি।’ মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহিদ মালেক স্বপনের ব্যক্তিগত সহকারী সামছুল হক বলেন, ‘আমরা ১০ বছরে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। তা আমরা নিয়মিত ফেইসবুক পোস্ট ও প্রামাণ্য চিত্র তৈরি করে প্রচার করছি।’
ফেইসবুকে প্রচারে আওয়ামী লীগ এগিয়ে থাকলেও পিছিয়ে স্বতন্ত্র, জাতীয় পার্টি ও বিএনপির প্রার্থী-সমর্থকরা। নির্বাচনী কর্মকাণ্ড ফেইসবুকে প্রচার করলে মামলা হওয়ার অভিযোগ করেন তারা। মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি কাজী রায়হান উদ্দিন টুকু বলেন, ‘বিএনপির কর্মকাণ্ড ফেইসবুকে প্রচার করা নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে। শুধু ছবি পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও যুবদলের অর্ধশতাধিক নেতা জেলে আছেন। আবার সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাওয়ার ছবি দিলে ওই ভোটারের ওপরও নির্যাতন করা হচ্ছে। তাই আমরা আপাতত ফেইসবুক প্রচার কম করছি।’