বড়দিনেও শাটডাউন থাকছে যুক্তরাষ্ট্রে

বড়দিনের তিনদিন আগে সৃষ্টি হওয়া আংশিক ‘শাটডাউন’ সহজেই মিটছে না যুক্তরাষ্ট্রে। খ্রিস্টধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসবেও দেশটিতে এ সাময়িক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকবে এমনটাই ধারনা করা হচ্ছে।

শুক্রবার মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য পাঁচ বিলিয়ন ডলার বাজেট অনুমোদনে ব্যর্থ হয়ে সরকারি ব্যয় বরাদ্দ বিলে সই করতে অস্বীকৃতি জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিন মধ্যরাত থেকে আংশিক ‘শাটডাউন’ তথা সরকারি সেবা বন্ধের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র।

ডেমোক্রেটদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটরও সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে অর্থ বরাদ্দের বিরোধিতা করেন। ফলে সিনেটে এই অর্থ অনুমোদন করিয়ে নিতে ব্যর্থ হন ট্রাম্প।

ডেমোক্রেট সিনেটর চউক শিউমার বলেন, “প্রেসিডেন্ট একগুঁয়েমি করে এমন একটা ইস্যু সিনেটে ছুড়ে দিলেন। এখন বড়দিনের আগমুহূর্তে শাটডাউন নিয়ে শঙ্কিত হতে হচ্ছে।”

রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, বিলে সই নিয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির দলনেতা মিচ ম্যাককনেল আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি করেন।  তিনি বলেন, “কোনো চুক্তি হলেই তিনি সিনেটরদের ফেরাবেন।” 

বিবিসি জানায়, অন্তত বড়দিনের ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ অচলাবস্থা বজায় থাকতে পারে। অর্থাৎ এ বছর আর অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না। 

বড়দিনের সময়টিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডায় ছুটি কাটানোর কথা থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে। ওই সময় রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতেই থাকবেন তিনি।

এদিকে অচলাবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন স্বরাষ্ট্র, আইন ও কৃষি বিভাগে অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।  চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অর্থ পাবে না এই বিভাগগুলো। 

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় পার্কগুলোও এর কবলে পড়েছে। এগুলোতে চার লাখের বেশি কর্মীকে অচলাবস্থা নিরসন হওয়া পর্যন্ত বিনা বেতনে কাজ করতে হচ্ছে।  এ ছাড়া আরো তিন লাখ ৮০ হাজার কর্মীকে সাময়িক ছুটিতে থাকতে হচ্ছে।  তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা, সীমান্তে টহল, ডাক বিভাগ ও বিমানবন্দরের কার্যক্রম চলবে।

মূলত দুই দলের মতানৈক্যের ফলে কোনো প্রস্তাব পাস না হয়ে বাজেট বরাদ্দ আটকে যাওয়ায় ‘শাটডাউন’ পরিস্থিতি তৈরি হয়। চলতি বছর এনিয়ে তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ‘শাটডাউন’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানায় বিবিসি।