সেই এরশাদ এখন গুরুত্বহীন

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদকে নিয়ে দশম সংসদ নির্বাচনের আগে টানাহেঁচড়া শুরু হয়েছিল। মিডিয়া তৎপর ছিল তার সংবাদ পরিবেশনের জন্য। নির্বাচনে অংশ নিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ অনেককেই ধরনা দিতে হয়েছে তার দরজায়। অনেক শর্ত মেনে তাকে আনতে হয় নির্বাচনে। কিন্তু এবার সেই পরিস্থিতি নেই। বিএনপি নির্বাচনে আসায় তার দল জাতীয় পার্টির গুরুত্ব কমে গেছে। সর্বশেষ মহাজোটের আসন ভাগাভাগি নিয়ে অসন্তুষ্টি থাকায় সিঙ্গাপুরে গেলেও কপাল খোলেনি তার। বাড়েনি আসন।

নানা সংশয় থাকলেও বিএনপি এখন পর্যন্ত নির্বাচনে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে সংসদের বিরোধী দলে যাবে বিএনপি। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক হিসেবে জাতীয় পার্টি থেকে খুব বেশি হলে দু-তিন জনকে মন্ত্রী করা হতে পারে বলে দলটির নেতারা আশা করছেন।

এদিকে সরকারে এরশাদ ও রওশন এরশাদের অবস্থান কী হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। উল্টোদিকে  বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিপদে পড়ে যেতে পারে এরশাদ ও তার দল।

তবে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ার বিষয়টি মানতে নারাজ জাপার শীর্ষ নেতারা। দলের মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২৬টি আসনে আমাদের অবস্থান ভালো। উন্মুক্ত আসনগুলোর মধ্যে বেশকিছু আসনেও আমরা ভালো অবস্থানে আছি। আমরা প্রচার চালাচ্ছি। আশা করি রেজাল্ট ভালো হবে। ফলে ভবিষ্যতে কে বিরোধী দল হবে, বিএনপি নাকি আমরাÑ তা ভবিষ্যৎই বলবে। এখনই কোনো কিছু বলা যায় না।’

জাপার এই নেতা আরো বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছি। মহাজোটের অন্যতম শরিক। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশা তো থাকবেই। তা ছাড়া আমরা দুর্দিনে আওয়ামী লীগের পাশে ছিলাম। তাদেরও সেটা উপলব্ধি করা উচিত।’

জাতীয় পার্টির নীতিনির্ধারকরা অবশ্য এমন পরিস্থিতি আঁচ করতে পারছেন। তাই নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। আসন বণ্টন নিয়ে তারা ক্ষমতাসীনদের ওপর অসন্তুষ্ট। দল মহাজোটের হয়ে ২৯টি এবং উন্মুক্তসহ ১৭৪টি আসনে নির্বাচন করছে। আশা ছিল অন্তত ৩০টি আসন দেবে ক্ষমতাসীনরা। দিয়েছে ২৬টি। জাপাও ক্ষুব্ধ হয়ে নৌকা প্রতীক রয়েছে এমন ১২৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এর মধ্যে রওশন এরশাদের একটি আসনসহ মাত্র তিনটি আসন থেকে দলীয় প্রার্থী তুলে নিলেও এরশাদ ঢাকা-১৭ আসন ছাড়তে নারাজ।

আসন নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় অভিমানে এরশাদ সিঙ্গাপুরে উড়াল দিয়েছেন বলে অনেকের বিশ^াস। কিন্তু তার অভিমান ভাঙাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি ক্ষমতাসীনরা। জাপা নেতারা বলছেন, আজ সোমবার দেশে ফিরছেন এরশাদ। দেশে ফিরে কী বার্তা দেবেন ও নির্বাচনী মাঠে কী ভূমিকা হবে সেদিকেই তাকিয়ে সবাই। আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, তাদের সঙ্গে থাকা ছাড়া এই মুহূর্তে এরশাদের সামনে আর কোনো পথ নেই। সে হিসেবে যেসব আসনে নৌকা প্রতীক রয়েছে, সেখান থেকে জাপা প্রার্থীদের তুলে নিতে পারে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সমর্থন অনুযায়ী জাপাকে আসন দেওয়া হয়েছে। তারা যে কয়টিতে জিততে পারবে সেটা যাচাই-বাছাই করেই দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়ে জাপার সঙ্গে কোনো মতবিরোধ নেই। মহাজোটের শরিক হিসেবেই গুরুত্ব পাচ্ছে তারা। তবে ভবিষ্যতে তারা বিরোধী দলে যেতে পারবে কি না, সেটা এখনই বলা যায় না। ভোটের পর সব পরিষ্কার হবে। তবে এটা বলতে পারি, জাপার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো।’

এদিকে দলের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে উদ্বিগ্ন জাপার শীর্ষ নেতারাও। এবার খুব বেশি হলে ১০টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নীতিনির্ধারকের। নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে গতবার জাতীয় পার্টি বিশাল অবদান রেখেছে। এর জন্য দলকে সংসদে গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবে সমালোচনা শুনতে হয়েছে। সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দলের মধ্যে বিভাজন এসেছে। এবার পরিস্থিতি বদলেছে। বিএনপি নির্বাচনে আসায় দলের কদর কমেছে।